• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
Headline
বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির বর্তমান-ভবিষ্যত-রিন্টু আনোয়ার গাইবান্ধায় ‘বসন্ত’ রোগে স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু, আক্রান্ত পুরো পরিবার হাম ও উপসর্গ নিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৪১ হাজার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান: বাংলাদেশের জন্য সুযোগ নাকি বিপদ? হাওরের বুক চিরে কৃষকের বোবাকান্না: অসময়ের ঢলে তলিয়ে গেল হাজার কোটি টাকার সোনালি স্বপ্ন ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদে দেশের অর্থনীতি: ভুল নীতি ও অস্বচ্ছ চুক্তির দায় কার? বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু: কবে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবে ৪৮ দেশ? ড. ইউনূস সরকারের সব কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট ফের বিয়ের পিঁড়িতে ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা

রোগী বাড়ছে, চিকিৎসক নেই: জনবল ও ওষুধ সংকটে ধুঁকছে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট

Reporter Name / ৬ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

দেশের অগ্নিদগ্ধ রোগীদের প্রধান ও একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত ভরসাস্থল রাজধানীর ‘জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’। গুরুতর অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার সময় জাতীয় পর্যায়ে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র জনবল ও ওষুধ সংকটে চিকিৎসাসেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক জনবল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের ওষুধ সংকট, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ওষুধের অভাবে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা, বাড়ছে ব্যয়

জরুরি সেবা থেকে শুরু করে নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই ওষুধের ঘাটতি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হাসপাতালে না পেয়ে রোগীদের তা বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা শুরু হতে যেমন বিলম্ব হচ্ছে, তেমনি নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই বাড়তি ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ সংগ্রহ করতে না পারায় রোগীদের চিকিৎসা অসম্পূর্ণই থেকে যাচ্ছে।

হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছিল নয় বছর বয়সী শিশু নাওল। গরম তেলে পা পুড়ে যাওয়ায় তাকে এখানে নিয়ে আসেন বাবা শরিফুল হাসান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “নার্স ও চিকিৎসকরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যথানাশক, ব্যান্ডেজ, আনুষঙ্গিক অন্যান্য জিনিসপত্রসহ বেশ কিছু জরুরি ওষুধ আমাকে বাইরে থেকেই কিনতে হয়েছে।”

পরিসংখ্যানে রোগীর চাপ (২০২৩ বনাম ২০২৪)

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে বছরজুড়েই শয্যা পরিপূর্ণ থাকার হার (বিওআর) শতভাগ।

  • ২০২৪ সালের চিত্র: বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৫ হাজার ১৭৯ জন এবং জরুরি বিভাগে ১৬ হাজার ৫৭১ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৭৩৫ জন রোগী এবং মোট অস্ত্রোপচার হয়েছে ১১ হাজার ৩০২ জনের।

  • ২০২৩ সালের চিত্র: বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ৭২ হাজার ১৫২ জন এবং জরুরি বিভাগে ১২ হাজার ৯১২ জন। ওই বছর ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৫ জন।

পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, এক বছরের ব্যবধানে হাসপাতালে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী সেবার সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি।

জনবল ঘাটতি চরম পর্যায়ে

হাসপাতালটির নিজস্ব তথ্যমতে, চিকিৎসক ও নার্সের চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি:

  • চিকিৎসক সংকট: ৫০০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪৬৮টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৪২ জন। অর্থাৎ, শূন্যপদের সংখ্যা ২২৬টি, যা মোট পদের প্রায় ৫০ শতাংশ।

  • নার্স সংকট: নার্সদের জন্য অনুমোদিত পদ ৬৫৬টি, যার বিপরীতে নিযুক্ত আছেন ৫২৫ জন। তবে শিক্ষা ছুটি, প্রেষণে অন্য হাসপাতালে কাজ করা, অনুপস্থিতি এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে বর্তমানে বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৪০৯ জন। ফলে নার্স ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪৭ জনে।

  • আইসিইউর বেহাল দশা: হাসপাতালটিতে ২০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি শয্যার বিপরীতে তিনজন করে অন্তত ৬০ জন নার্স থাকা বাধ্যতামূলক হলেও সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২৩ জন।

সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বিশেষজ্ঞদের মত

সার্বিক বিষয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট ও প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক মারুফুল ইসলাম বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই ওষুধের সংকট রয়েছে। কিছু ওষুধ টেন্ডারের মাধ্যমে বাইরে থেকে আনা হয়, যেগুলো আসতে সময় নিয়েছে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও চিকিৎসাকাজে নিবিড়ভাবে নিয়োজিত আছেন। সাধ্যমতো রোগীদের সম্পূর্ণ সেবা দেওয়ার চেষ্টা আমাদের অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট নিরসনে প্রথমেই একটি চাহিদাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। বছরে রোগীর সংখ্যা ও রোগের ধরন বিশ্লেষণ করে আগাম ওষুধ ক্রয় ও মজুত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়ানো জরুরি, যাতে টেন্ডার জটিলতা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।



আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category