শীতের ঠাণ্ডায় সর্দি, জ্বর একটি সাধারণ সমস্যা।
সর্দি এবং ফ্লু ভাইরাস ঘাড়ের মাংসপেশীকে টাইট এবং স্পাজম করে দেয়
ফলে ঘাড় ব্যথা হয়।
এছাড়াও ঘাড়ে অনেক লিম্ফনোড বা গ্ল্যান্ড আছে যা শীতে ফুলে যায়।
এ ফুলে যাওয়া লিম্ফনোডগুলো ঘাড়কে স্টিফ করে ফেলে এবং ব্যথা সৃষ্টি
করে। শীতকালে বায়োমেট্রিক প্রেসার অর্থাৎ বাতাসের চাপ কমে যায় এতে
আমাদের শরীরের টিস্যুগুলো ফুলতে থাকে, এ ফুলা নিজের জায়গা থেকে
অল্প অল্প ছড়াতে থাকে এবং নার্ভে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। কারণ, এদের
সারফেস এরিয়া বেড়ে যায়। নার্ভে
চাপ পড়ার ফলে আমাদের ব্যথা
হয়। এছাড়াও শীতে আমরা এক
কাতে, মানে এক দিকে মুখ করে
শুয়ে
থাকি,
ফলে
ঘাড়ের
মাংসপেশীতে চাপ পড়ে এবং ব্যথা
হয়। শীতে হতাশা ও ডিপ্রেশনের
মাত্রা বেড়ে যায়, মাসল টাইট
হওয়ার
ফলে সার্ভিকোজেনিক
হেডেকের মাত্রাও বেড়ে যায়।
শীতে ঘাড় ব্যথা থেকে পরিত্রাণের উপায়: একই ভঙ্গিতে বেশি সময় কাজ
করা যাবে না। কিছুক্ষণ পর পর ভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। আমরা
প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি
তখন আমাদের ঘাড়ের ভঙ্গি একইরকম থাকে। অস্বাভাবিক ঘাড়ের ভঙ্গি
আমাদের ঘাড়ের উপর অনেক প্রেসার তৈরি করে থাকে।
কেননা, তখন আমাদের ঘাড় বাড়তি ওজন বহন করে। স্বাভাবিক
অবস্থায় আমাদের ঘাড় ১০-১২ পাউন্ড ওজন বহন করে, যখনই আমাদের
মাথা সামনের দিকে ১৫ ডিগ্রি চলে আসে তখন ২৭ পাউন্ড ওজন বহন
করে। অর্থাৎ আমাদের মাথা সামনের দিকে যত আসবে আমাদের ঘাড়ের
উপর তত অতিরিক্ত ওজন পড়বে এবং ডিক্স হারনিয়েটেড হওয়ার ঝুঁকি
বেড়ে যাবে এবং মাংসপেশী অসুস্থ হবে। তাই অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেন বেশি সময় ধরে ঘাড় সামনের দিকে বাঁকা করে ফোন ব্যবহার
না করি। আমাদের সঠিক নিয়মে ঘুমাতে হবে, সঠিক নিয়মে না ঘুমালে
মাইগ্রেন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ঘাড়ের ব্যথা সৃষ্টি করে।
ঘাড় একপাশে ঘুরিয়ে পেটের উপর ভর করে বা উপুড় হয়ে ঘুমানো
যাবে না। কোমরের উপর ভর দিয়ে বা চিত এবং কাত হয়ে সঠিক ভঙ্গিতে
ঘুমাতে হবে।
বছরের প্রত্যেক ঋতুতেই ডিহাইড্রেশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে, এমনকি
শীতেও ডিহাইড্রেশন হতে পারে। সুতরাং, শীতকালেও প্রচুর পানি পান
করতে হবে। কেননা, আমাদের ডিস্ক অধিকাংশই পানি দিয়ে তৈরি। তাই
মেরুদণ্ড সুস্থ রাখার জন্য হাইড্রেট রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রচুর পানি পান করার কারণে আমাদের মেরুদণ্ড যেমন সুস্থ থাকে
তেমনি আমাদের ঘাড়ের ইনজুরি প্রতিরোধ করে। শীতকালে খুব সহজে ঘাড়
ব্যথা থেকে মুক্ত থাকার প্রধান উপায় হলো প্রতিদিন এক্সারসাইজ করা।
রেগুলার এক্সারসাইজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপি
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘাড় ব্যথার জন্য বিভিন্ন থেরাপিউটিক
এক্সারসাইজ করতে হবে।আমরা সারাজীবনে নানারকম ব্যথায় ভুগে থাকি।
আর সে ব্যথা যদি হয় ঘাড়ের ব্যথা তাহলেই নানা প্রকার বিপত্তি দাঁড়ায়।
যেমন: ঘুমাতে ব্যথা হয়, বসে বসে কাজ করতে ব্যথা হয়, ভ্রমণ করতে
ব্যথা হয় ইত্যাদি। ঠিক এমনই একজন রোগী জনাব আব্দুল মোতালেব,
বয়স ৫২ বছর। তিনি কাজ করেন অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে। আমার সামনে
এসে বসলেন এবং বলতে থাকলেন তার রোগের বিভিন্ন কষ্টের কথা।
গলায় পরেছিলেন সার্ভাইক্যাল কলার যা নাকি তার জন্য সঠিক মাপের নয়।
বলে রাখা ভালো সার্ভাইক্যাল কলার ব্যবহার করতে হলে তিনটি জায়গায়
মাপ দিয়ে সার্ভাইক্যাল কলার কিনতে হবে অথবা তৈরি করতে হবে। তিনি
ঘাড়ের ব্যথায় ভুগছেন গত ১৮ মাস যাবত। ঘাড় থেকে ব্যথা বাম স্ক্যাপুলাতে
আসে, বাম হাতের আঙ্গুলগুলো ঝিঁঝি করে।