পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা জমে উঠেছে। তবে তীব্র গরম, দীর্ঘ পথের ধকল এবং হাটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অনেক পশুই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এর পাশাপাশি ক্রেতাদের মনে সুস্থ গরু চেনা, ক্ষতিকর স্টেরয়েডের ব্যবহার শনাক্ত করা এবং কোরবানির পর মাংসের সঠিক সংরক্ষণ নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা কাজ করে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের আলোকে এই বিষয়গুলোর বিস্তারিত গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।
পশুর হাটে গিয়ে একটি সুস্থ ও সবল গরু চিনতে কয়েকটি বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া জরুরি:
শারীরিক তৎপরতা: সুস্থ গরু সাধারণত অ্যালার্ট বা চটপটে থাকে। কাছে গেলে সাড়া দেয়, লেজ নাড়ে এবং খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখায়।
বাহ্যিক লক্ষণ: চোখ উজ্জ্বল ও চামড়া মসৃণ থাকবে। শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক ফোলা বা দেবে যাওয়া থাকবে না। সুস্থ গরুর নাকের কালো অংশ সবসময় ভেজা ও চকচকে থাকে।
জাবর কাটা ও গোবর: গরু বসে থাকলে খেয়াল করতে হবে সে স্বাভাবিকভাবে জাবর কাটছে কি না। দাঁড়াতে বললে যদি দ্রুত উঠে দাঁড়াতে পারে, তবে সেটি সুস্থ। সুস্থ গরুর গোবর খুব বেশি পাতলা বা শক্ত হয় না।
অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রুত মোটাতাজাকরণের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করে। এ ধরনের গরু চেনার উপায় হলো:
গরুর মধ্যে চরম অলসতা বা অবসাদ দেখা যায়।
শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং মাংসের স্বাভাবিক বিন্যাস থাকে না।
বিশেষ করে রানের মাংসে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে সেটি দেবে যায় এবং পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বেশ কিছুটা সময় নেয়। তবে মনে রাখতে হবে, গরমের কারণে বড় গরুর সাধারণ ‘হিট স্ট্রেস’ এবং স্টেরয়েডের প্রভাব এক নয়।
গ্রাম থেকে দীর্ঘ জার্নি এবং তীব্র গরমের কারণে গরুর শরীরে তাপমাত্রা বেড়ে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোক হতে পারে।
লক্ষণ: গরুর হাঁপানো, মুখ দিয়ে লালা ঝরা, খাবার না খাওয়া এবং দাঁড়াতে না পেরে শুয়ে পড়া হিটস্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ।
করণীয়: এমন অবস্থায় কখনোই গরুকে সঙ্গে সঙ্গে গোসল করানো যাবে না; এতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি থাকে। প্রথমে গরুকে ছায়াযুক্ত ও ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে এবং স্যালাইন বা গমের ভুসি মেশানো পানি খাওয়াতে হবে। শরীর কিছুটা স্বাভাবিক হলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে গা মুছে দিতে হবে।
হাটে গাদাগাদি করে রাখার কারণে পশুর মধ্যে খুরা রোগ (এফএমডি) এবং লাম্পি স্কিন ডিজিজের (এলএসডি) মতো সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে। মুখে বা খুরে ঘা এবং শরীরে গুটি দেখা দিলে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া গাভী কোরবানির ক্ষেত্রে সেটি গর্ভবতী (প্রেগন্যান্ট) কি না, তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
জবাইয়ের প্রস্তুতি: জবাইয়ের স্থান অবশ্যই ঠান্ডা ও পরিষ্কার হতে হবে। মাংসের গুণগত মান ঠিক রাখতে জবাইয়ের অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে পশুর খাবার বন্ধ রাখা ভালো।
রক্ত ঝরানো: মাংস প্রসেস করার সময় তা ঝুলিয়ে রাখা উচিত, যাতে শরীর থেকে পুরোপুরি রক্ত নিচে পড়ে যায়। রক্ত জমে থাকলে মাংসের মান নষ্ট হয়।
সংরক্ষণ প্রক্রিয়া: ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে রাখা সবচেয়ে ভালো। একবার ফ্রিজ থেকে বের করা মাংস পুনরায় জমিয়ে রাখা একেবারেই উচিত নয়, এতে পুষ্টিগুণ ও স্বাদ কমে যায়।