পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া সর্বশেষ ১৪ দফার এক প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান চেয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নয়, বরং যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো।
রোববার (৩ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাল্টা জবাব
ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘নূর নিউজ’ জানিয়েছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফার পরিকল্পনার পাল্টা জবাব হিসেবেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই ১৪ দফার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে চলমান তিন সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, রোববার ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির সঙ্গে টেলিফোনে যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কয়েক দফার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল ওমান।
ইরানের নতুন প্রস্তাবে যা রয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া ১৪ দফার নতুন প্রস্তাবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ-অবরোধের অবসান ঘটাতে হবে।
সেনা প্রত্যাহার ও সংঘাতের অবসান: মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধসহ সব ধরনের বৈরিতার অবসান ঘটাতে হবে।
পারস্পরিক অনাক্রমণ: পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালানো থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিরত থাকতে হবে। এর বিনিময়ে ইরানও তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালাবে না।
পারমাণবিক স্থাপনা সুরক্ষা: প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলা বা দেশটির স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার যেকোনো শর্ত বা দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
জব্দকৃত অর্থ ছাড়: নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিদেশে জব্দকৃত ইরানের অর্থ পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (দ্বিতীয় ধাপ): প্রস্তাবটির দ্বিতীয় ধাপে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর ইরান ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণ করে পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা (তৃতীয় ধাপ): সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরব প্রতিবেশী এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।