দেশের বাজারে তেজাবি বা পাকা সোনার মূল্যহ্রাসের প্রভাবে একদিনেই দুবার কমল সোনা ও রুপার দাম। বৃহস্পতিবার সকালের পর বিকেলে আবারও দাম কমানোর এই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংস্থাটির মূল্য নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেই নতুন এই দর কার্যকর হবে।
বাজুসের সবশেষ এই ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট সোনার ভরিতে ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা কমে এর বর্তমান মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনা ৬ হাজার ২৯৯ টাকা হ্রাসের পর ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ৫ হাজার ৮২ টাকা কমে এখন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি হবে।
সোনার মতো রুপার বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী ২২ ও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা করে কমে যথাক্রমে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা ও ৫ হাজার ১৩২ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেটের রুপা ভরিতে ২৩৩ টাকা কমে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালেও বাজুসের পক্ষ থেকে সোনার দাম বড় ব্যবধানে কমানো হয়েছিল। সেই সময় ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ২১ ক্যারেটে ৭ হাজার ৩৪৯ টাকাসহ অন্যান্য ক্যারেটের দামও আনুপাতিক হারে হ্রাস করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সোনার দাম সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল গত ২৯ জানুয়ারি। সেসময় ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির মূল্য একলাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই রেকর্ড গড়া দামের পর একদিনে এমন জোড়া দরপতন ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফেরাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।