• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
Headline
বিদ্যুৎ থাকছে না ১০-১৪ ঘণ্টা: নেপথ্যে কয়লা-জ্বালানি সংকট আর বকেয়ার পাহাড় ট্রাম্পের দাবি নাকচ: নেতানিয়াহুর সঙ্গে এখনই কোনো সংলাপে বসবেন না লেবাননের প্রেসিডেন্ট কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, গোলাবর্ষণ অব্যাহত ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে ‘মিসাইল সিটি’ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধারে মরিয়া ইরান: পেন্টাগনের দাবি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছাড়তে রাজি ইরান, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ট্রাম্প নামাজে দরুদ শরিফ পড়ার সঠিক নিয়ম ও ফজিলত খালেদা জিয়ার পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন জাইমা রহমান কর কাঠামোতে সারচার্জ বাতিল করে ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা দেশে হাম পরিস্থিতির চরম অবনতি: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর প্রাণহানি হজের প্রথম ফ্লাইট শুক্রবার দিবাগত রাতে

কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, গোলাবর্ষণ অব্যাহত

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে বহুল কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তা নগ্নভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে অবিরাম গোলাবর্ষণ ও সামরিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।

হামলা ও নজরদারির বিস্তারিত চিত্র

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘এনএনএ’ এবং দেশটির সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, মধ্যরাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই থেমে থেমে গোলাবর্ষণ করছে ইসরায়েল।

  • স্থল হামলা: দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন শহরে ভারী কামানের গোলার পাশাপাশি মেশিনগানের নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও ব্যাপক সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

  • আকাশপথে নজরদারি: শুধু স্থল হামলাই নয়, পশ্চিম বেকা উপত্যকা, বিশেষ করে রাশায়া অঞ্চল এবং জাবাল আল-শাইখের আকাশে ইসরায়েলি নজরদারি বিমান ও ড্রোনের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

সেনাবাহিনীর সতর্কতা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান

যুদ্ধবিরতির পরও এমন উত্তপ্ত ও হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করায় দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষকে এখনই নিজ বসতভিটায় ফেরার ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে বলেছে লেবাননের সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল যে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় তাদের সেনা উপস্থিতি এখনো রয়েছে। তাই নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই লেবানিজ নাগরিকদের লিটানি নদীর দক্ষিণ প্রান্তে ইসরায়েলি সীমানার কাছাকাছি না যাওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছিল তারা।

চুক্তির প্রেক্ষাপট ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তবে এই চুক্তি নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও রাজনৈতিক বিভক্তি দেখা দিয়েছে। জাফাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শেহাদে জানান, এই যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলি জনগণের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ইসরায়েলের একাংশের ধারণা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রবল রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই তেলআবিব এই চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে।

হতাহতের পরিসংখ্যান

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে ইসরাইলি বাহিনীর চলমান বর্বরোচিত হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ১৯৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ১৮৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মুহূর্তেই এই লঙ্ঘনের ঘটনা ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category