মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ট্রাম্প এই দাবি করেন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো সম্মতি বা ইঙ্গিত প্রকাশ্যে আসেনি।
অবরোধ ও হামলার চাপেই নতিস্বীকারের দাবি
ইরানের এই আকস্মিক নমনীয়তার পেছনে মার্কিন সামরিক চাপকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ এবং টানা চার সপ্তাহের জোরালো বোমা হামলার কারণেই তেহরান আজ আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ইরান এখন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া এবং আমরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তাদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি মোকাবিলা করছি। বর্তমানে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালো পর্যায়ে রয়েছে।”
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির সম্ভাবনা
গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, আগামী ২১ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নতুন করে বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশ একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে উপনীত হতে সক্ষম হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তান সফরের ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষদিকে ইরানের সঙ্গে আবারও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব পক্ষের সম্মতিতে যদি শেষ পর্যন্ত এই শান্তি চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়, তবে চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করতে তিনি নিজে পাকিস্তান সফর করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।