মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের ভূগর্ভস্থ গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো—যা সামরিক পরিভাষায় ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত—ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও পেন্টাগনের দাবি, এই প্রবল হামলার কারণে মাটির নিচে অবস্থিত এসব ঘাঁটির প্রবেশমুখগুলো সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় ইরান ফ্রন্ট-এন্ড লোডার ও ডাম্পার ট্রাকের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং লঞ্চারগুলো উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য:
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া সামরিক স্থাপনাগুলো থেকে অবশিষ্ট অস্ত্রশস্ত্র খুঁড়ে বের করার কাজ করছে তেহরান।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে এতটাই বিপর্যস্ত যে, তা নতুন করে পুনর্গঠন করার মতো সামর্থ্য তাদের আর নেই। হেগসেথের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি চাপ ও হামলার কারণে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে; ফলে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করা কিংবা পুরোনো সামরিক শক্তি পুনরুদ্ধার করার সক্ষমতা এখন তাদের একেবারেই সীমিত।
স্যাটেলাইট চিত্র ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন:
পেন্টাগনের এই দাবির পালে হাওয়া দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। সেখানে জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে ধারণ করা বেশ কিছু স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) চিত্রে ইরানের এই উদ্ধার তৎপরতার প্রমাণ মিলেছে। ছবিগুলোতে স্পষ্ট দেখা গেছে, অবরুদ্ধ ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর ওপর থেকে কংক্রিট ও মাটির স্তূপ সরাতে বিশাল আকারের ভারী যন্ত্রপাতি বিরতিহীনভাবে কাজ করছে।
চলমান উত্তেজনা ও প্রেক্ষাপট:
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামোর যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, পেন্টাগনের এই দাবি ও স্যাটেলাইট চিত্র তারই ইঙ্গিত বহন করে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, ধ্বংসস্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সংঘাতের রেশ এখনো কাটেনি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এখনো চরমে অবস্থান করছে।
আপনি চাইলে এই প্রতিবেদনের সাথে ব্যবহারের জন্য একটি মানানসই শিরোনাম বা প্রতীকী ছবির প্রম্পট তৈরি করে দিতে পারি।