• বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: জ্বালানি ট্যাংকে অগ্নিকাণ্ড, ইরানকে দায়ী করছে কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৩৬ Time View
Update : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতের অষ্টম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার রাতে কুয়েতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি মজুত ট্যাংক এবং একটি সরকারি ভবনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে।

হামলার বিবরণ

কুয়েতের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এটিকে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনুপ্রবেশকারী বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক ও পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রধান ভবনে আগুন ধরে যায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও কুয়েতি সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ইরানের পাল্টা আঘাতের ধারাবাহিকতা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরুর পর থেকেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইরান বর্তমানে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি করেছে। কুয়েতের এই হামলার পাশাপাশি সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করেও ইরান একের পর এক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ রোববার সকাল পর্যন্ত সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অন্তত ১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

ট্রাম্পের হুঙ্কার ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনের তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ৭০ শতাংশ রকেট লঞ্চার এবং নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমঝোতার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি দেশটিকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সমঝোতায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক কর্মকাণ্ডে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আতঙ্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও লজিস্টিক হাবগুলোতে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category