• সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
Headline
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জীবনাবসান শারীরিক অসুস্থতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ প্যারেন্ট- টিচার মিটিং : যা জিজ্ঞেস করা জরুরি শিশু রামিসা খুন: আদালতে ‘ডলার’ তত্ত্ব দিলেন সোহেল ডিটেনশন ক্যাম্পের আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত ছাড়ছে হাজারো মানুষ স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ দলের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ইসির খসড়া জঙ্গল সলিমপুরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এগারো বাহিনীর রামরাজত্ব এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিলে আসছে নতুন নেতৃত্ব সাগরতলের নিরাপত্তা রক্ষায় চালকবিহীন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বানাচ্ছে আকুস কুমিল্লায় এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের অভিযোগ

কোহলির বীরত্বে বেঙ্গালুরুর টানা দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা জয়

Reporter Name / ৫ Time View
Update : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে দীর্ঘ সতেরো বছরের শিরোপা-খরা কাটানোর পর এবার যেন রীতিমতো উড়ছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। গত ২০২৫ সালের আসরে নিজেদের প্রথম শিরোপা জয়ের যে বাঁধভাঙা উল্লাস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি করেছিল, এবার সেই আনন্দকে তারা নিয়ে গেল এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায়। আহমেদাবাদের ঐতিহাসিক নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোববার রাতে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালে স্বাগতিক গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অবিস্মরণীয় গৌরব অর্জন করেছে বেঙ্গালুরু। আর এই শিরোপা জয়ের মূল রূপকার হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা বিরাট কোহলি। তার অনবদ্য, দায়িত্বশীল ও অপরাজিত একটি মহাকাব্যিক ইনিংস বেঙ্গালুরুকে পৌঁছে দিয়েছে স্বপ্নের ঠিকানায়, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে।

শিরোপা নির্ধারণী এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে টস ভাগ্য সহায় হয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্তে বোলাররা অধিনায়কের আস্থার দারুণ প্রতিদান দেন। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে গুজরাট টাইটান্স শুরু থেকেই নিজেদের মাঠে প্রবল চাপে পড়ে যায়। বেঙ্গালুরুর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথের সামনে গুজরাটের আক্রমণাত্মক ব্যাটাররা কেউই ক্রিজে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে তাদের ইনিংসে কোনো স্থিতিশীলতা আসেনি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের নির্ধারিত ২০ ওভারে গুজরাট টাইটান্স মাত্র ১৫৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে এবং আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে এটি মোটেও কোনো চ্যালেঞ্জিং বা নিরাপদ সংগ্রহ ছিল না।

জয়ের জন্য ১৫৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে। রান তাড়ায় ওপেনিংয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে সঙ্গী করে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করেন বিরাট কোহলি। চার ও ছক্কার দৃষ্টিনন্দন সব শটে মাত্র ৫ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৬২ রান তুলে ফেলে এই উদ্বোধনী জুটি। তবে পঞ্চম ওভারের শেষদিকে গুজরাটের পেসার মোহাম্মদ সিরাজের বলে আইয়ার আউট হলে খেলায় প্রথম ব্রেকথ্রু আসে। পাওয়ার প্লের শেষ লগ্নে দেবদত্ত পাডিক্কালকে দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে আরেক পেসার কাগিসো রাবাদা ম্যাচে নাটকীয়তা ফিরিয়ে আনার জোরালো ইঙ্গিত দেন। এরপর নবম ওভারে জাদুকরী স্পিন ভেলকি দেখান গুজরাটের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। তিনি পরপর রজত পাতিদার এবং ক্রুনাল পান্ডিয়াকে প্যাভিলিয়নে ফেরালে বেঙ্গালুরু কিছুটা চাপের মুখে পড়ে যায়।

কিন্তু ক্রিজের অন্য প্রান্তে যেন নির্ভরতার এক বিশাল প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অভিজ্ঞ বিরাট কোহলি। দলের বিপর্যয়ের মুখে তিনি হার্ডহিটার টিম ডেভিডকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দারুণভাবে চাপ সামলে নেন। ডেভিড আগ্রাসী ব্যাটিং করে ব্যক্তিগত ২৪ রানে আউট হওয়ার আগে এই জুটি থেকে আসে মহামূল্যবান ৪১ রান, যা মূলত ম্যাচটিকে গুজরাটের হাত থেকে পুরোপুরি ছিনিয়ে নেয়। এরপর বাকি কাজটুকু নিখুঁত দক্ষতায় একাই সেরে ফেলেন কোহলি। মাত্র ৪২ বল মোকাবিলা করে ৭৫ রানের এক নান্দনিক ও অপরাজিত ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে দলকে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরান তিনি। এই অভাবনীয় জয়ের মাধ্যমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের পর আইপিএলের ইতিহাসে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক অনন্য রেকর্ডে নিজেদের নাম চিরস্থায়ী করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category