সারা দেশে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন ২৫ হাজার ৫৫০ জনের বেশি শীর্ষ কারবারি। ইয়াবা, হেরোইন, আইস, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন তাঁরা। তাঁদের নিয়ন্ত্রণ করছেন এক হাজারের বেশি গডফাদার। নিজস্ব অনুসন্ধান থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা হালনাগাদ তালিকা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নতুন তালিকার বিষয়ে অধিদপ্তর সূত্র বলছে, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর, এই তিন মাস ধরে অধিদপ্তরের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা সারা দেশে অনুসন্ধান চালিয়ে নতুন তালিকাটি তৈরি করেন। এর মধ্যে কক্সবাজার ও টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক কারবারি সবচেয়ে বেশি।
এই কারবারিরা একক কোনো গোষ্ঠী নয়, বরং একটি তিন স্তরের নেটওয়ার্কের অংশ। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রতিবেদনে সারা দেশে ২০ হাজার ৮৯১ জন মাদক কারবারির তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে গডফাদার ১ হাজার ৬২০ জন, পাইকারি কারবারি ৬ হাজার ২২৭ জন এবং খুচরা পর্যায়ের কারবারি ১৩ হাজার ৪৪ জন। পুলিশের তালিকায় কারবারির সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৫ জন, আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তালিকায় ৩ হাজার ৯৬৪ জন। গডফাদার, অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও গাঁজা চাষিদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
মাদক গডফাদারদের মধ্যে নবী হোসেন নামের একজনের ব্যবসা আরাকানকেন্দ্রিক। দেশের বিভিন্ন স্থান ও সীমান্তবর্তী জেলায় তাঁর কয়েক শ সহযোগী রয়েছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শীর্ষ মাদক কারবারি দিলদার ও পিচ্চি রাজা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। নবী হোসেনের সঙ্গে আরাকানকেন্দ্রিক একটি আন্তর্জাতিক চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। টেকনাফকেন্দ্রিক অন্য কারবারিদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ নূর, জাহেদ হোসেন, হারুন-অর-রশিদ, ফয়েজ আহমেদ, জিয়াউল হক, জাফর আলম, দিদারুল আলম ও শামসু মিয়া। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা কালের কণ্ঠকে বলেন, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে তাঁরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। এর মধ্যে অনেক কারবারিকে তাঁরা গ্রেপ্তার করেছেন।
সূত্র মতে, এই শীর্ষ কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নজরদারির মধ্যেও ইয়াবা, হেরোইন, কুশ, কোকেন পাচারের রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করছেন। তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিচক্রের যোগাযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই ঢুকছে কোটি কোটি টাকার ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ংকর মাদকের চালান। অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১৮ জেলায় অন্তত ১০৫টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মাদক ঢুকছে। এর মধ্যে মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ, উখিয়া, শাহপরীর দ্বীপ, তুমব্রু, ঘুমধুম, কুতুপালং ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকার পয়েন্টগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকাই অবৈধ মাদকের প্রধান গন্তব্য।
মাদকের উৎসের দিক থেকে মিয়ানমারই প্রধান। সোনালি ত্রিভুজ নামে পরিচিত থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও লাওসের সীমান্ত অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক উৎপাদন এলাকা। মিয়ানমারের শান রাজ্যে উৎপাদিত ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ দেশটির পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মেথামফেটামিন জব্দের পরিমাণ ২০২৪ সালে রেকর্ড ২৩৬ টনে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি। সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, জব্দ করা পরিমাণ আসল প্রবাহের সামান্য অংশ মাত্র। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি মংডু দখল করে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
জব্দের সংখ্যা দেখলে বোঝা যায় চালানের আকার কত বড়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তিন কোটি চার লাখ ৯৪ হাজার ৩৩৩ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন এক লাখ ৬৯ হাজারের বেশি ইয়াবা জব্দ করা হয়, যা গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে প্রতিদিন ৫০ হাজারের বেশি ইয়াবা জব্দ বেড়েছে। ২০২৫ সালে ইয়াবা ও অন্যান্য উত্তেজক ট্যাবলেট জব্দের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪ কোটি ৩৫ লাখে পৌঁছেছে, আগের বছর যা ছিল ২ কোটি ২৮ লাখ। গত সেপ্টেম্বরেই টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তে এক অভিযানে ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ হয়েছে। আগস্টে নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার এবং আরেক অভিযানে ৪ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা ও তিন কেজি ক্রিস্টাল মেথ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
তবু বাজারে যে পরিমাণ ইয়াবা আছে, তার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ধরা পড়ে, বাকি ৮৫ শতাংশ ক্রেতাদের কাছে চলে যায়। তবে মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেকনাফ অঞ্চল বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে বলে অধিদপ্তর সূত্র জানায়। অধিদপ্তর সূত্র বলছে, মিয়ানমারসহ অন্যান্য সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিতভাবে তথ্য আদান-প্রদান ও যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।
চাহিদার দিকটাও ভয়াবহ। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ এক বা একাধিক অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়াদের ৩৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে প্রথম মাদক নিয়েছেন। আর ৫৯ শতাংশ শুরু করেছেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে। মাদকের ধরন অনুযায়ী, গাঁজা ব্যবহার করেন প্রায় ৬১ লাখ মানুষ, ইয়াবা ২৩ লাখ এবং অ্যালকোহল ২০ লাখ। একজন মাদকসেবী মাসে গড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। শীর্ষ কারবারিরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছেন জানিয়ে অধিদপ্তর সূত্র বলছে, তাঁদের ক্রেতা স্কুল-কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। মাদকের টাকা জোগাড়ে ছিনতাই ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ ঘটছে।
এই সংকটের মধ্যেই অভিযানের ধরন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। গত ছয় মাসে রাজধানীর বিভিন্ন বার, ক্লাব ও তারকা হোটেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রায় ৪২টি অভিযান চালানো হয়। বারে অভিযানের সময় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে পুলিশের মাদক অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন লাইসেন্সধারী বারে অভিযান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের উদ্ধার করা জিনিসের তালিকায় ছিল মাত্র চার বোতল মদ, একটি ইয়াবা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম। অথচ আটক করা হয় ৮৪ জনকে। যাঁদের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। এতে পুলিশ কর্মকর্তারাই বিস্ময় প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বারে অভিযানে অ্যালকোহলের মজুদ, বিক্রি ও লাইসেন্সের শর্ত পালনের বিষয় গুরুত্ব পেলেও এর বিপরীতে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদকের বড় চালান, এর সরবরাহকারীচক্র এবং গডফাদারদের বিরুদ্ধে একই মাত্রার অভিযান তেমন নেই। মাঠ পর্যায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা আড়াল করতেই রাজধানীর বার, ক্লাব ও তারকা হোটেলগুলোতে অ্যালকোহলের মজুদ ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান শোভন বলেন, দেশে ৫৮টা বার রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ বার রাজধানীকেন্দ্রিক। বারে যাঁরা আসেন, তাঁদের বেশির ভাগ লাইসেন্সধারী। মাদক আর অ্যালকোহল এক নয়। অথচ দুটি বিষয়কে এক করা হচ্ছে। তবে এই দুটিকে আলাদা করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, অভিযানের সময় তাঁদের ইউটিউবাররা ঢুকছেন। সামাজিকভাবে এই জিনিসটাকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অথচ যখন ইয়াবা ধরা হচ্ছে, সেটা কেউ চোখেই দেখছে না। অনেক সময় ইয়াবা নিয়ে নানা বাণিজ্য হয়। অথচ বারে অভিযান চালানোর সময় ঘটা করে ফলোআপ করা হয়।
অযথা বৈধ বার বা হোটেলকে মাদক উদ্ধারের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় দাবি করে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বৈধভাবে লাইসেন্স ফি ও ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করা দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বারবার অভিযান চালিয়ে হয়রানিও করা হয় তাঁদের। এতে পর্যটন ও বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। বিশেষ করে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পেয়ে থাকে বলে জানান তাঁরা। সাম্প্রতিক অভিযানের বিষয়ে অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাজিউর রহমান বলেন, বারে অভিযান চালিয়ে দেখা হয় কার লাইসেন্স আছে আর কার নেই। এখন কম বয়সী শিক্ষার্থীদেরও বারে পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে অনেককে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। গত ২৩ অক্টোবর ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো আসাম, মিজোরাম ও মণিপুরে একযোগে ৩৮টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে। ওই অভিযানের লক্ষ্য ছিল মিয়ানমার থেকে ভারত ও বাংলাদেশে মেথামফেটামিন ও হেরোইন পাচার করা একটি চক্রের অর্থের পথ। ভারত ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মাদক চক্র নির্মূলের লক্ষ্য নিয়েছে। দেশে ইয়াবাসহ নানা মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়মিত কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে জানিয়ে অধিদপ্তর সূত্র বলেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হাসান মারুফ বলেন, মাদক পাচার ও মাদকমুক্ত সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নীতিগত নির্দেশনা অনুযায়ী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জব্দ আর গ্রেপ্তারে সংকট কাটবে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। তবে বড় বড় চালানসহ বাহক ও খুচরা পর্যায়ের কারবারিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়মিত সামনে এলেও মাদক নেটওয়ার্কের শীর্ষ পর্যায়ের অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও সমন্বয়কারীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা কতটা সম্ভব হচ্ছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তাঁর এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে মাদকবিরোধী লড়াইয়ের আসল চ্যালেঞ্জ। বাহক ধরা পড়ছে, চালান জব্দ হচ্ছে, কিন্তু নাটাই যাঁদের হাতে, তাঁরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
চিকিৎসার দিকটাও সমান উদ্বেগজনক। জরিপে দেখা গেছে, মাদকসেবীদের মাত্র ১৩ শতাংশ কখনো চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন। অর্ধেকের বেশি একবার হলেও মাদক ছাড়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু মানসম্মত চিকিৎসা, পরামর্শ ও সামাজিক সহায়তার অভাবে বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনায় মাদকাসক্তি চিকিৎসায় মাত্র ১ হাজার ৬৭৯টি শয্যা বাড়ানোর কথা রয়েছে, যা ৮২ লাখ মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। তবে সরকার সাত বিভাগে ২০০ শয্যার সাতটি নতুন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরবরাহের নাটাই গডফাদারদের হাতে থাকবে আর চাহিদার দিকে চিকিৎসা পৌঁছাবে না, ততক্ষণ মাদকের এই অদৃশ্য সাম্রাজ্য ভাঙা কঠিনই থেকে যাবে।