• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
Headline
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা কর্মসূচি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন আরব জোটের, কোণঠাসা নেতানিয়াহু ৩০ বিলিয়নের নিচে রিজার্ভ, তবু মেটানো যাবে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় গডফাদার ১ হাজারের বেশি: কোটি মাদক জব্দের পরও বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে ৮৫ শতাংশ ৩ বছর পরপর হালনাগাদ হবে সরকারি নির্মাণের দর, ৬ মাসে ডিজিটাল ব্যবস্থা ৩ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্সেও কাটছে না চাপ ঝুলে আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার আবেদন: এনআইডি সংশোধনের নামে সক্রিয় ভয়ংকর চক্র বিপ্লব ও সংহতি দিবস : জিয়া জাতির নির্ভরতার মহান কাণ্ডারী রাজধানীর ৫৭ ওয়ার্ডের ১৪ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা: ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ২৯টি ঘুড়ির নাটাই আপনার হাতে

৩ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্সেও কাটছে না চাপ

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমদানি ব্যয়ের হঠাৎ উল্লম্ফনে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আজ বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। এতে বাংলাদেশের বাহ্যিক বা বৈদেশিক বাণিজ্য খাত নতুন ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে।

ঘাটতি বাড়ার পেছনে মূল কারণ আমদানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইপিজেডসহ ফ্রি অন বোর্ড মূল্যে মোট আমদানি ব্যয় ১৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। কেবল জুলাই ও আগস্ট মাসেই আমদানি ব্যয় দাঁড়ায় ১২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ডক্টর মোহাম্মদ এজাজুল ইসলাম টিবিএসকে জানান, জুলাই ও আগস্টে মোট আমদানির পরিমাণ যেখানে ১২ বিলিয়ন ডলার ছিল, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ১৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ এক মাসেই আমদানি ব্যয় প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

আমদানি ব্যয় কেন এত বাড়ল, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামসহ আমদানিকৃত বিভিন্ন কাঁচামাল ও পণ্যের দাম বেশি থাকায় সামগ্রিক আমদানি মূল্য অনেক বেশি দিতে হচ্ছে বলে জানান ডক্টর এজাজুল ইসলাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে জ্বালানি আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রায় দ্বিগুণ। শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকগুলো ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ঋণপত্র খুলেছে, আগস্টে যা ছিল ৬ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ আমদানির চাপ সামনের মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

আমদানির তুলনায় রপ্তানি বাড়লেও সেই গতি অনেক কম। ডক্টর এজাজুল ইসলাম বলেন, আমদানির বৃদ্ধির তুলনায় রপ্তানি সেভাবে বাড়েনি। রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলারের মতো, যার ফলে আমদানি ও রপ্তানির মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রপ্তানি আয় ইপিজেডসহ ফ্রি অন বোর্ড মূল্যে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া শিপমেন্ট বা চালানভিত্তিক মোট রপ্তানি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৩ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

রপ্তানির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতও একই চিত্র দিচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি বাড়ছে, কিন্তু আমদানি ব্যয়ের তুলনায় সেই বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। ফলে দুইয়ের ব্যবধানই বাণিজ্য ঘাটতি হিসেবে জমা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রপ্তানি আয়ের এই ধীর গতি অব্যাহত থাকলে ঘাটতি কমানো কঠিন হবে।

বাণিজ্য ঘাটতির ধাক্কা এবার চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও লেগেছে। এক মাস আগেও বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য উদ্বৃত্ত অবস্থানে থাকলেও সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে তা ঋণাত্মক বা ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চলতি হিসাবের এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮২১ মিলিয়ন ডলার। অথচ এর মাত্র এক মাস আগেও চলতি হিসাব ৫৯১ মিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছিল। এ বিষয়ে ডক্টর এজাজ বলেন, আমাদের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট পজিটিভ ছিল, এটাই থাকার কথা, কারণ এখন রেমিট্যান্সে গ্রোথ ভালো। তবে সেপ্টেম্বর শেষে এটা নেগেটিভ হয়েছে। মূলত আমদানির ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার কারণেই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স নেগেটিভ বা ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে।

মূলধন হিসাব, আর্থিক হিসাব এবং ভুল ও বাদপড়া খাত বাবদ ২৫৯ মিলিয়ন ডলার সমন্বয় করার পর দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্য বা ওভারঅল ব্যালেন্স অব পেমেন্টসে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে সমপরিমাণ নিট রিজার্ভ সম্পদও সমন্বয় করতে হয়েছে। আর্থিক হিসাবে সামান্য ইতিবাচক প্রবাহ বজায় থাকলেও তা মাত্র ৩২৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৭৯৬ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই ৩৫৮ মিলিয়ন ডলারে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ ছাড় প্রায় ৪৮ শতাংশ কমে ৫৪২ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

ডক্টর এজাজুল ইসলাম বলেন, পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টের নিট প্রবাহও গত বছরের ১ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার থেকে আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৩২৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে যে বিদেশি অর্থ আসার কথা, সেই প্রবাহও এখন দুর্বল। ফলে চাপটা পড়ছে রিজার্ভের ওপর। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ ছাড় কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।

এই পরিস্থিতিতে বহিঃবাণিজ্য খাতের অন্যান্য খাতের ঘাটতি সামাল দিতে প্রধান ও নির্ভরযোগ্য নিয়ামক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। আলোচ্য সময়ে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। এটি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। আরও সাম্প্রতিক হিসাবে, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। শুধু অক্টোবর মাসেই এসেছে ২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন।

তবে রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহও এবার ঘাটতি পুরোপুরি সামাল দিতে পারছে না। বেসরকারি একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান বলেন, এলএনজির দরবৃদ্ধির কারণে এখন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিদেশি ঋণ ছাড় সে হারে বাড়ছে না। যে কারণে ডলারের চাহিদা বেড়ে এভাবে দর বাড়ছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এখনকার ডলার বাজারে এই খারাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে। বাজারের চিত্রও তাই বলছে। আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ১২৪ দশমিক ৩০ টাকার আশপাশে থাকলেও খোলাবাজারে তা ১২৯ টাকায় উঠেছে। গত ২৮ অক্টোবর ব্যাংকগুলোর ৮০০ মিলিয়ন ডলারের চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ১২২ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শেষ নাগাদ দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে। এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৮ মাসের পণ্য ও সেবা আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আর শুধু পণ্য আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে ৫ দশমিক ৩ মাসের। তবে রিজার্ভ বাড়ার প্রবণতা থমকে গেছে। বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়নে, যা এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বরে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়নে উঠেছিল। আর আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ নেমেছে ৩১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। গত ১ সেপ্টেম্বর যা ছিল ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের ২৯ জুন প্রথমবারের মতো গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল।

সামনের দিনগুলো নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ডক্টর এজাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারের মতো তেলের উচ্চমূল্য, একইসঙ্গে নিত্যপণ্যের দর চড়া থাকায় অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও ট্রেড ব্যালেন্স এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকতে পারে। তবে এখানে একটি নতুন তথ্য আশার আলো দেখাচ্ছে। অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৩৮ ডলারে উঠলেও নভেম্বরের শুরুতে তা কমে ৯৩ দশমিক ৮ ডলারের আশপাশে নেমে এসেছে। এশিয়ার এলএনজি সূচক জাপান-কোরিয়া মার্কার এখনো ৩১ দশমিক ৬২ ডলারের মতো উঁচুতে থাকলেও তেলের দাম কমতে থাকলে আমদানি বিলের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, জ্বালানি সংকট মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে অনেক বেশি দরে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। যার কারণে ট্রেড ডেফিসিট বেড়েছে। সামনের দিনে রপ্তানির পরিমাণ বাড়লে এই ঘাটতির পরিমাণ কমে যাবে। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে আমদানির চাপ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। এই চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাপান এবং আইএমএফ থেকে নতুন অর্থায়নের প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাসের দিকে তাকালেও প্রথম প্রান্তিকের এই ঘাটতি উদ্বেগজনক মনে হচ্ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৯ শতাংশের মতো কমে ২০ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। তার আগের অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ২২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৭ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের ঘাটতি ছিল ৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার, সেখান থেকে এক লাফে ৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে ওঠা বলছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ধারা এবার উল্টো দিকে ঘুরেছে। এই ধারা চলতে থাকলে পুরো অর্থবছরের ঘাটতি আবার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সব মিলিয়ে ছবিটা স্পষ্ট। আমদানি ব্যয় বাড়ছে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে, রপ্তানি বাড়ছে ধীরগতিতে, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ ছাড় কমছে, আর ডলারের দর বাড়ছে। রেমিট্যান্স এখনো শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় হয়ে আছে, কিন্তু একা তা ঘাটতি সামাল দিতে পারছে না। রিজার্ভ এখনো পাঁচ মাসের আমদানি মেটানোর মতো অবস্থায় আছে, তবে তা কমতির দিকে। তাই রপ্তানি বাড়ানো, জ্বালানি আমদানিতে সাশ্রয় আনা আর বিদেশি অর্থায়নের প্রবাহ ধরে রাখাই এখন অর্থনীতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category