‘বিয়ে হচ্ছে এমন একটি দরজা যার ওপাড়ে স্বর্গ কিংবা নরক অপেক্ষা করে।’
কিছুদিন আগে মেয়ের জন্য কেমন পাত্র নির্বাচন করা উচিত তা নিয়ে লিখেছিলাম।
এরপর কেউ কেউ অনুযোগ করছেন, ছেলের বউ খোঁজার জন্য কী কী ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত তা নিয়ে লিখছি না কেন?
যেহেতু আমার ছেলে নেই, ভাতিজারা এখনো অনেক ছোটো, ভাগ্নেরা বিয়ে করে ফেলেছে, তাই এ ব্যাপারে সিরিয়াসলি ভাবিনি।
কয়েকদিন নিজেকে ছেলের বাবার জায়গায় বসিয়ে ব্যাপারটি নিয়ে ভাবলাম। যেসব চিন্তা মাথায় এলো তা লিখলাম। ভুল হলে শুধরে দেবেন।
১ ) ছেলের সাথে মেয়ের চিন্তায় মিল আছে কি না তা বিবেচনা করা উচিত। উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুর বিয়ে দেওয়া মানে দুজনের জন্যই ভোগান্তি। তাই বিয়ের আগে তাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত যাতে তারা বুঝতে পারে নিজেদের চিন্তাভাবনায় মিল আছে কি না।
২ ) আমি মনে করি, ছেলের চেয়ে অনেক কম বয়সী মেয়ে কখনোই বিয়ে করা উচিত নয়। দুজনে দুজনার ভাষাই বুঝতে পারবে না—শান্তি আসবে কোত্থেকে?
৩ ) পাত্রীর শিক্ষাও দেখা উচিত। শিক্ষিত স্ত্রী অনেক বড় সৌভাগ্য। তিনি স্বামীকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারেন। তাছাড়া, ভবিষ্যতে অনাগত সন্তানদের জন্য শিক্ষিত মা খুবই জরুরি।
৪ ) রূপ নয়, স্বভাবচরিত্র দেখা উচিত। আমার এক বন্ধুর মা বলতেন, ‘তুমি যাকেই পছন্দ করো তার ভূগোল নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই, কিন্তু ইতিহাস ভালো হতে হবে।’ (এটি ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য প্রযোজ্য)
৫ ) যে পরিবারের পরিবেশ ভালো নয় সে পরিবারের ছেলেমেয়ে ভালো পারিবারিক শিক্ষা পায় না। অথচ এ শিক্ষা খুব জরুরি। এছাড়া, ছেলেকে সারাজীবন শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। সে বাড়ির পরিবেশ ভালো না হলে সে শান্তি পাবে না। তাই পাত্রীর পরিবারের পরিবেশ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
৬ ) সমানে সমানে বিয়ে হওয়া জরুরি। অবস্থানে খুব বেশি ভিন্নতা থাকলে পাত্র-পাত্রীর মেন্টাল অ্যাডজাস্টমেন্ট খুব কম হয়। দুজনের মধ্যে ইনফেরিওরিটি বা সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স দেখা দেয়। হবু বধুর সাথে শ্বশুর-শাশুড়ীর বনাবনি হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।
৭ ) বিয়েতে মেয়ের সম্মতি আছে কি না তা শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। অনেক সময় অভিভাবকরা জোর করে মেয়ে দিয়ে দেন। পরে দেখা যায়, মেয়েটি স্বামীকে মেনে নিতে পারছে না। এটি ছেলের জন্য অনেক বড় সমস্যা তৈরি করে।
৮ ) মেয়ের জন্য পাত্র বাছাইয়ের আগে দুজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। ছেলের জন্য পাত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। নয়তো ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা হতে পারে।
৯ ) আমার মতে, ছেলের বউ খোঁজার সময় পাত্রীর মা খুব ডোমিনেটিং কি না তা দেখা উচিত। ডোমিনেটিং মা মেয়ের সংসারে বেশি মাথা ঘামান, যা ঝামেলা তৈরি করে। মা-বাবা অবশ্যই পরামর্শ দেবেন—কিন্তু কর্তৃত্ব বেশি করলে অশান্তি হয়। (এটা মেয়ের জন্য বর খোঁজার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য)
১০ ) পাত্রীর ভাই-বোন কেমন তাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এরা আশীর্বাদও হতে পারে, অভিশাপও হতে পারে।
মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হলো, ছেলে আপনাকে এত কিছু বিবেচনা করার সুযোগ আদৌ দেবে কি না? নাকি নিজের পছন্দে বিয়ে করবে? করতেও পারে। এটি অস্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। তাই তাকে আপনি তার কেমন জীবনসঙ্গী চান সে ব্যাপারে আগেই ধারণা দিয়ে রাখুন। মেয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা বলেছিলাম।
আমাদের ছেলেমেয়েরা বিয়ে নামের দরজার ওপাড়ে স্বর্গের সন্ধান পাক—এই প্রার্থনা করি।
#আসুন মায়া ছড়াই