• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
Headline
এসআরবির মহাপরিচালকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৭ কর্মকর্তাকে বদলি সরকার বিরোধী দল দমনে তৎপর, ফ্যাসিস্ট দমনে নমনীয়: নাহিদ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এবার আলাদা কমিটি গঠনের চিন্তা ১১ দলীয় ঐক্যের সরকারের অদক্ষতার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো হচ্ছে: জামায়াত আমির ‘রাইট ট্র্যাকে’ রূপপুর প্রকল্প, দ্রুতই মিলবে বিদ্যুৎ: প্রযুক্তিমন্ত্রী ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির চট্টগ্রাম কাস্টমসে চার মাসে ২৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ডি-৮ বাণিজ্যের বাধা কাটাতে এফটিএ-পিটিএ বাস্তবায়নের তাগিদ বাংলাদেশের

জাইকার সহায়তায় ১৮ জেলায় নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার মিনি-ল্যাবরেটরি স্থাপন

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

দেশের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় ১৮টি জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয়ে মিনি-ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

পাশাপাশি ৬৪টি জেলা ও আটটি মহানগর কার্যালয়ের পরীক্ষাগার কার্যক্রম পরিচালনায় কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পরিদর্শন, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় কার্যক্রম জোরদারে জাইকার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত স্টির্ক প্রকল্পের চূড়ান্ত ফলাফল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

আজ বিএফএসএ প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জাইকা বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী।

দীর্ঘদিন ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও জনসচেতনতা তৈরিতে জাইকার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘এসটিআইআরসি’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিএফএসএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের অর্জনগুলো বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, খাদ্যশিল্প ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র প্রতিনিধি ইজুমি শোজি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু একটি কারিগরি বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জনআস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিএফএসএর সঙ্গে জাইকার দীর্ঘদিনের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি এ পথচলায় জাপানকে অংশীদার করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে বিএফএসএর সঙ্গে জাইকার কারিগরি সহযোগিতার অংশ হিসেবে স্টির্ক প্রকল্পটি দেশের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে। প্রকল্পটির আওতায় নিরাপদ খাদ্য-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের উন্নয়ন, খাদ্য পরিদর্শন ও নমুনা সংগ্রহ জোরদার, পরীক্ষাগারের কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের সহায়তায় মাঠপর্যায়ে খাদ্য পরীক্ষা, নমুনা বিশ্লেষণ ও খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি শনাক্তকরণের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইন, বিধিমালা, মানদণ্ড ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়েছে।

খাদ্য পরিদর্শন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তাদের পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহকারীদের নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষাগার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরীক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা তদারকি ও পরীক্ষার কার্যক্রমে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও প্রকল্পটি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যান্টিন কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মিষ্টি প্রস্তুতকারীদের জন্য প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের (টিওটি) আয়োজন করা হয়েছে।

পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারিসংশ্লিষ্ট কর্মী ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা ও মানোন্নয়নে উত্তম উৎপাদন অনুশীলন (জিএমপি) এবং জাপানিজ ৫এস কাইজেন পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য প্রশিক্ষণ সহায়িকা, খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শন চেকলিস্ট ও গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করেও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সচিব ও স্টির্ক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) শ্রাবস্তী রায়।

অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঝঞওজঈ প্রকল্পের কর্মকর্তা, খাদ্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category