• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চান খাদ্যমন্ত্রী সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি ও সফট পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী প্রলয়ংকরী যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশগুলো দুর্নীতি মামলায় আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান ট্রাইব্যুনালে রুমির হাতে ‘চড় খাওয়া’ সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর বিএনপি জাতির সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করেছে: শফিকুর রহমান জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পুর্নবাসন করা হবে: রাসিক প্রশাসক মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত

তাঁকে দেখে পালটে যাওয়ার লোভ আমার আজও গেলো না!

বাদল সৈয়দ / ৬ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

প্রত্যেকটা মানুষের ছোটোবেলায় একজন ‘আইডল’ থাকে, যাকে দেখে সে বড়ো হয়। তার মতো হতে চায়।
আমার ছিলেন আইডল ছিলেন সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দি।
আমরা একই দালানে থাকতাম। সৌমিত্র দাদা দোতলায়, আমরা তিনতলায়। তাঁকে ডাকতাম শংকু দা। শুধু আমার না, তিনি আমার সমবয়সীদের অনেকের আইডল ছিলেন।
তিনি ছিলেন পাড়ার রূপকথার নায়ক। আমাদের চাইতে কয়েক বছরের বড়ো। অসম্ভব ভালো ছাত্র। খুব ভালো বিতার্কিক। কথা বললে মনে হয় আবৃতি করছেন। কবিতা লেখেন। খুব পরিপাটি। সবচে লোভনীয় ছিল তাঁর ছোট্ট লাইব্রেরি। তাতে অনেক বই সাজানো। তবে দাদা কিন্তু বইয়ের ব্যাপারে ছিলেন অতি কঠিন। কাউকে পড়তে দিতেন না। আমি প্রায়ই তাঁদের বাসায় যেতাম, কারণ তাঁর ছোটো দুভাই বাবলা আর পাম্পু আমার জানের বন্ধু, কিন্তু বইয়ের কাছে যাওয়ার অনুমতি পেতাম না।
একদিন তাঁদের বাসায় গেছি। তিনি টেবিলে বসে পড়ছেন। আমি লোভ নিয়ে চকচকে বইগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি, তিনি হঠাৎ একটি বই নিয়ে বললেন, ‘বাদল, এই বইটি নিয়ে যাও, পড়ে ফেরত দিও, তবে দেখো, যাতে ছিঁড়ে না যায়।’
আমি তো হতভম্ব। দাদা দিচ্ছেন বই! হাত বাড়িয়ে দেখি বইটির নাম ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’।
তারপর থেকে তাঁর বইতে ভাগ বসাতে আমার আর সমস্যা হয়নি।
নিজের অজান্তেই এ মানুষটি আমাকে পড়ুয়া বানিয়েছেন, প্রগতিশীল চিন্তা করতে শিখিয়েছেন, রেজাল্ট ভালো করার প্রেরণা দিয়েছেন, বিতার্কিক বানিয়েছেন, পরিপাটি হতে শিখিয়েছেন, এমনকি লেখালেখির ভাবনাও হয়তো তাঁকে দেখে প্রথম জন্ম নিয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্য কথা হলো, এ বয়সে এসেও তাঁর জ্ঞানক্ষুধা মিটেনি। একটার পর একটা ডিগ্রি নিচ্ছেন! নতুন ভাষা শিখছেন!
ছোটোবেলায় দাদাকে দেখে পালটে গিয়েছিলাম। তাঁকে দেখে পালটে যাওয়ার লোভ আমার আজও গেলো না!
আমার দাদা নিজেও জানেন না তাঁর আলোয় আমি কতটা আলোকিত!
আজ দাদার জন্মদিন
শতায়ু হোন, দাদা।
শুভ জন্মদিন।

#আসুন মায়া ছড়াই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category