দেশে হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় সারা দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৮টায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাস্থ জিন্দা পার্কের লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে শিশুদের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন সরদার।
ক্যাম্পেইনের মূল তথ্যাবলি:
লক্ষ্যমাত্রা: সারা দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু।
সময়সূচি: সাপ্তাহিক ছুটি ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
কেন্দ্রসমূহ: দেশের সকল স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বিস্তৃতি ও বাস্তবায়ন
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮টি জেলা, ৩০টি উপজেলা এবং ৪টি সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই ক্যাম্পেইনকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
কর্মসূচির মেয়াদকাল
টিকাদান কর্মসূচির সময়সীমাকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে:
গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
১২ এপ্রিল শুরু হওয়া কর্মসূচিটি চলবে ১২ মে পর্যন্ত।
সামগ্রিকভাবে সারা দেশে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ১২ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নির্দেশনা ও সতর্কতা
শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে: ১. অসুস্থ বা মারাত্মক জ্বরাক্রান্ত শিশুদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর তাকে টিকা দিতে হবে। ২. কোনো শিশু যদি ইতিমধ্যে প্রথম ডোজ নিয়ে থাকে, তবে চার সপ্তাহ (২৮ দিন) পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া যাবে না।
হাম ও রুবেলার মতো প্রাণঘাতী এবং পঙ্গুত্ব সৃষ্টিকারী রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।