• মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই আসুক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বদলাবে না: শামা ওবায়েদ পুশইন হলে কড়া ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোডশেডিং নয়, কেবল কারিগরি ত্রুটিতেই যাচ্ছে বিদ্যুৎ: হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক মায়ের জয়: ‘এটি আমার ব্যক্তিগত জয়’, আবেগী মিমি চক্রবর্তী জেল পালানো জঙ্গিদের খোঁজে দেশজুড়ে রেড অ্যালার্ট ডুবছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল: আট নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে ‘রোদেলা’ পূর্বাভাস ২৫০০ কোটি টাকার ইলেকট্রিক বাস: ঢাকার লক্কর-ঝক্কর বাসের দিন কি শেষ? নেতার উদারতা বনাম কর্মীর দাপট: তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ কি পথ হারাচ্ছে? কলকাতার তখত ও ঢাকার উদ্বেগ: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কেন নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভাগ্য? শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের সেদিনের ভূমিকা পর্যালোচনার আহ্বান চরমোনাই পীরের

নেতার উদারতা বনাম কর্মীর দাপট: তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ কি পথ হারাচ্ছে?

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এক বিশাল প্রত্যাশার চাপ নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে বিএনপি। দীর্ঘ দুই দশক পর নিরঙ্কুশ জনসমর্থন নিয়ে দেশের মসনদে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ ও ‘উদার’ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার গঠনের কয়েক মাসের মাথায় এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে খোদ প্রধানমন্ত্রী তার সমালোচনাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে তার দলেরই মন্ত্রী-এমপিদের সমালোচনা করায় সাধারণ মানুষকে শ্রীঘরে যেতে হচ্ছে। নেতার বার্তা এবং কর্মীর আচরণের এই মেরুকরণ এখন কেবল বিএনপির জন্য নয়, পুরো দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কার্টুন থেকে কারাগার: বাকস্বাধীনতার দ্বিমুখী সমীকরণ

গত ২৪ আগস্টের একটি ঘটনা এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। কার্টুনিস্ট মেহেদী হক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন এঁকেছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যারা এমন কাজ করেছেন, তাদের পরিণতি কী হতো তা সবার জানা। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তারেক রহমান সেই কার্টুনটি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন এবং কার্টুনিস্টের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। এটি ছিল দেশের বুদ্ধিজীবী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল ‘অভয়বাণী’। কিন্তু বাস্তব চিত্র কি সত্যিই বদলেছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, ওপরের দিকে যে উদারতার বাতাস বইছে, মাঠ পর্যায়ে তা গিয়ে বিষাক্ত লু-হাওয়ায় পরিণত হচ্ছে।

সম্প্রতি ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের অপরাধ? তারা সরকারের চিফ হুইপ কিংবা কোনো না কোনো প্রতিমন্ত্রীর কাজের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাই হয় যে কেউ তার সমালোচনা করতে পারবে, তবে তার অধীনস্থ মন্ত্রী-এমপিদের সমালোচনা করলে কেন জেলবন্দী হতে হবে? এই প্রশ্নটিই এখন ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের মনে কাঁটার মতো বিঁধছে। তারা যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিল, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি কি তবে শুরু হয়ে গেল?

তারেক রহমানের ‘প্ল্যান’ ও নেতাকর্মীদের মানসিকতা

নির্বাচনী জনসভাগুলোতে তারেক রহমান বারবার বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক ব্যবস্থা যেখানে পুলিশ মানুষের কন্ঠরোধ করবে না, বরং মানুষকে সুরক্ষা দেবে। কিন্তু বাস্তব দেখা যাচ্ছে, অনেক এলাকায় নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধীপক্ষকে কোণঠাসা করার পুরনো খেলায় মেতে উঠেছেন। ত্যাগী ও সঠিক সিদ্ধান্তের বদলে ক্ষমতার দাপট দেখানোই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান যে আগুনের তাপ অনুভব করছেন, তার কর্মীরা সম্ভবত সেই তাপ থেকে অনেক দূরে এসিরুমে বসে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছেন।

তারেক রহমান সবসময়ই চাচ্ছেন মুক্তমনা মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। এমনকি জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর একটি ইতিবাচক উদাহরণ দেখা গেছে এবি পার্টির অনুষ্ঠানে। সেখানে বিএনপির এমপি আশরাফউদ্দিন নিজানের উপস্থিতিতে এক সাধারণ কর্মী যখন জুলাই শহীদদের নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন নিজান তাকে থামিয়ে না দিয়ে বরং উৎসাহিত করেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমরা তো এমন রাজনীতিই চাই যেখানে জনগণ তাদের জবাবদিহিতা করতে পারবে।” এটিই ছিল তারেক রহমানের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দলের সব মন্ত্রী-এমপি কি নিজানের মতো উদারতা দেখাতে পারছেন?

বিশ্লেষণ: আগামীর চ্যালেঞ্জ ও নৈতিক অবস্থান

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নৈতিক অবস্থান এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এই রূপান্তর। ক্ষমতার অপব্যবহার যদি দ্রুত থামানো না যায়, তবে সাধারণ মানুষের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা মন্তব্যের জন্য গ্রেফতারের ঘটনাগুলো সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করবে। তারেক রহমান যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের রূপরেখা দিয়েছেন, তার চাবিকাঠি আসলে তার নেতাকর্মীদের হাতে। তারা যদি নেতার বার্তার ভুল ব্যাখ্যা করেন কিংবা নিজেদের ছোট রাজত্ব কায়েম করতে চান, তবে আন্দোলনের রক্ত বৃথা যেতে সময় লাগবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানকে কেবল বক্তব্যে নয়, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপেও প্রমাণ করতে হবে যে তার সরকার সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। ক্ষমতার আরামদায়ক চেয়ার ত্যাগ করে জনসেবা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত যদি মন্ত্রী-এমপিরা না দিতে পারেন, তবে ‘নতুন বাংলাদেশ’ কেবল একটি স্লোগান হয়েই রয়ে যাবে। কর্মীর আচরণের দায় যখন নেতার কাঁধে এসে পড়ে, তখন পুরো দলের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে। বিএনপি কি পারবে এই দাপুটে সংস্কৃতি ভেঙে তারেক রহমানের স্বপ্নের প্রকৃত উদার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে? সময় ও সাধারণ মানুষের ব্যালটই হয়তো এর চূড়ান্ত জবাব দেবে।

সূত্র: দ্যা ওয়েভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category