• মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
Headline
পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই আসুক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বদলাবে না: শামা ওবায়েদ পুশইন হলে কড়া ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোডশেডিং নয়, কেবল কারিগরি ত্রুটিতেই যাচ্ছে বিদ্যুৎ: হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক মায়ের জয়: ‘এটি আমার ব্যক্তিগত জয়’, আবেগী মিমি চক্রবর্তী জেল পালানো জঙ্গিদের খোঁজে দেশজুড়ে রেড অ্যালার্ট ডুবছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল: আট নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে ‘রোদেলা’ পূর্বাভাস ২৫০০ কোটি টাকার ইলেকট্রিক বাস: ঢাকার লক্কর-ঝক্কর বাসের দিন কি শেষ? নেতার উদারতা বনাম কর্মীর দাপট: তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ কি পথ হারাচ্ছে? কলকাতার তখত ও ঢাকার উদ্বেগ: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কেন নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভাগ্য? শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমের সেদিনের ভূমিকা পর্যালোচনার আহ্বান চরমোনাই পীরের

২৫০০ কোটি টাকার ইলেকট্রিক বাস: ঢাকার লক্কর-ঝক্কর বাসের দিন কি শেষ?

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

ঢাকার গণপরিবহন বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর ভাঙাচোরা লক্কর-ঝক্কর বাসের এক বীভৎস ছবি। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই চেনা নরকবাস থেকে মুক্তি দিতে এবার এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে ঢাকার রাস্তায় নামছে ৪০০টি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক বাস। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ১২ দফা কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ গড়ার উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, শত বাধা আর প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের চক্কর কেটে এই আধুনিক বাসগুলো কি আসলেই ঢাকার রাস্তার ভাগ্য বদলাতে পারবে?

মেগা প্রকল্পের অন্দরমহল: কী থাকছে এই আয়োজনে?

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-এর অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থায়ন (২১৩৫ কোটি টাকা) করছে বিশ্বব্যাংক। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় প্রথম ধাপে ২৫০টি বাস দ্রুততম সময়ের মধ্যে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো ঢাকাকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা। শুধু বাস নয়, এই প্রকল্পের অধীনে তিনটি আধুনিক চার্জিং ডিপো এবং একটি অত্যাধুনিক ভেহিকেল ইনস্পেকশন সেন্টার তৈরি করা হবে। মূলত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে এই বাসগুলো যাতায়াত করবে, যা এই দুই শহরের বাতাসের মান উন্নয়নে গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবেশ ও যান্ত্রিক উৎকর্ষ: কেন এই বাস জরুরি?

ঢাকার বর্তমান গণপরিবহনের অর্ধেকের বেশি বাসের ইকোনমিক লাইফ বা মেয়াদ অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। ডিজেলচালিত এই বাসগুলো যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, তা ঢাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে। সেখানে ইলেকট্রিক বাস মানেই ‘জিরো কার্বন নিঃসরণ’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেল বাসের তুলনায় ইলেকট্রিক বাসের মেকানিক্যাল কর্মদক্ষতা প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় এই প্রকল্পে নারীদের জন্য বিশেষায়িত ও নিরাপদ বাস সার্ভিসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে নামি-দামী স্কুলগুলোকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সকালের ‘পিক আওয়ারে’ শত শত প্রাইভেট কারের বদলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্কুল বাসে যাতায়াত করতে পারে।

বাস্তবতার কঠিন দেয়াল: চ্যালেঞ্জ যেখানে

কাগজে-কলমে সব উজ্জ্বল মনে হলেও বাস্তব চিত্র কিছুটা ধূসর। গত মে মাসে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানোর পর দীর্ঘ আট মাসেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামানের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাই এই স্থবিরতার মূল কারণ। এর বাইরেও রয়ে গেছে কারিগরি চ্যালেঞ্জ। ৪০০ বাসের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল বিদ্যুতের চাপ আমাদের গ্রিড সামলাতে পারবে কি না, কিংবা বাসের ব্যাটারি রিসাইক্লিং করার সক্ষমতা আমাদের আছে কি না—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। এছাড়া পরিবহন খাতের প্রভাবশালী মালিকরা বরাবরই আধুনিকায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান। পুরনো ডিজেল বাস সরিয়ে এই নতুন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

বেসরকারি উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

বিশেষজ্ঞ ডক্টর শামসুল হক মনে করেন, শুধু সরকারি খাতের ওপর ভরসা করলে সেবার মান ধরে রাখা কঠিন হবে। সিএনজি খাতের মতো এখানেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে যুক্ত করতে হবে। ইলেকট্রিক বাসের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত ওয়ার্কশপ এবং দক্ষ টেকনিশিয়ান। সরকার যদি এই ‘স্মার্ট ইলেকট্রিক যুগ’ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। এটি কেবল একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং ঢাকাকে লন্ডনের মতো একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তরের প্রথম সোপান। সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকলে হয়তো খুব শীঘ্রই ঢাকার রাস্তায় আমরা কালো ধোঁয়ার বদলে দেখতে পাব এক স্বস্তিদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থা।

সব মিলিয়ে, ২৫০০ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ ঢাকার ভাগ্য বদল করবে নাকি সিন্ডিকেটের গর্ভে হারিয়ে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই পরিবর্তনের শুরুটা যে জরুরি ছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সূত্র: দ্য ওয়েভ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category