• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলায় নিহত ১,৭১৯, জীবিত উদ্ধারে ক্ষীণ আশা

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। একের পর এক পরাঘাত এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা হাজারো মানুষের কারণে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত থাকলেও জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পৌঁছানোয় স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের উদ্ধারে বাসিন্দারা শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন) ভোরে দেশটিতে আরও একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও এতে নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৯ জনে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তবে সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবিসি জানায়, বুধবার (২৪ জুন) উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। এরপর সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধারকাজে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত বলে জানিয়েছে বিবিসি। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারাও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি খুবই কম। স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের দেওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তার ওপরই নির্ভর করছেন দুর্গতরা।

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি জীবন রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা মূল্যায়নে রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি চালু করা হবে। এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কোন এলাকার মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ৫০০টির বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য প্রাণহানির কথা বিবেচনায় রেখে জাতিসংঘ ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category