• মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে ভারতকে পাকিস্তানের কড়া বার্তা

Reporter Name / ১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) ইস্যুতে ভারতকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এ ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন।

এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি কোনোভাবেই আটকে রাখতে দেওয়া হবে না।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর বরাতে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও প্রবেশ করতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান তার পানির অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আগেও জানিয়েছে, প্রাপ্য পানি কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী ভাটির দেশের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও কেন পানি আটকে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, মুসাদিক মালিকের বক্তব্য পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, সংবাদমাধ্যমটি স্বাধীনভাবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি এখনও আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের এ অবস্থানকে সমর্থন করে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার বলেছেন, সিন্ধু নদীর পানি পাকিস্তানের জন্য ‘লাইফলাইন’ এবং এটি তাদের ‘রেডলাইন’।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারত সিন্ধু নদব্যবস্থার পানিতে নিজেদের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করতে চায় এবং ভারতের অংশের কোনো পানি পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী এবং এর উপনদীগুলোর পানিবণ্টন ও ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category