গতকাল রোববার মাঝরাতে এক আকস্মিক ও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মূল উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের পুনাখা জেলা। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৩। সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা ভূকম্পনের এই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ইউএসজিএস-এর নথিপত্র অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পনটি আঘাত হানে। এর মূল কেন্দ্র বা উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পুনাখা জেলা শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে, ভূগর্ভের একটি নির্দিষ্ট গভীরতায়।
ভৌগোলিক অবস্থান এবং ফল্টলাইনের সংযোগের কারণে এই ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন কেবল ভুটানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুনাখা জেলা থেকে উৎপন্ন হওয়া এই ভূকম্পনটির তরঙ্গ মুহূর্তের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল, ভারত এবং চীনের কিছু অংশে এই কম্পন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের বিস্তার:
ভুটান (উৎপত্তিস্থল) ──> বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও চীন
ভূমিকম্পটি যখন আঘাত হানে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ তখন রাতের ঘুমে মগ্ন ছিলেন। হঠাৎ বহুতল ভবনগুলো কেঁপে ওঠায় এবং ঘরের আসবাবপত্র নড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর ছেড়ে খোলা রাস্তায় নেমে আসেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ভূমিকম্পের তীব্রতা মাঝারি মানের হওয়ায় বাংলাদেশ কিংবা উৎপত্তিস্থল ভুটানের কোথাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের বড় প্রাণহানি, আঘাত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়াবিদেরা সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো দুর্যোগে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।