• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষের মৃত্যু না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত রক্তের মজুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রম জোরদার ও কর্নিয়া সংগ্রহে দেশকে স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সোমবার জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু সেমিনার আয়োজন করে রক্তদান কর্মসূচির গতি বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে, রক্তদান করলে দাতার শারীরিক ক্ষতি হয় না, বরং এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও রক্তদান একটি মহৎ কাজ উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একজন মানুষের জীবন বাঁচানো অনেক বড় দান। রক্তদানের মাধ্যমে অন্যের জীবন রক্ষা করা পরকালের জন্যও সওয়াবের কাজ। তাই এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তাদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়, যা রোগী ও পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির কারণ। এ কারণে বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রক্তের চাহিদা ও সংকট কমাতেও ভূমিকা রাখবে। রক্তের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা ও কর্মসূচি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সন্ধানীর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, রক্ত সংগ্রহের জন্য যেসব প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।

তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত সন্ধানীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, সন্ধানী মূলত মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের সংগঠন। রক্ত ও কর্নিয়া সংগ্রহের জাতীয় কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রক্ত সংগ্রহের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও কর্নিয়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় কর্নিয়া সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে রক্ত কিংবা কর্নিয়ার জন্য যেন অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

বিএমইউ ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ২ নভেম্বরকে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস হিসেবে ঘোষণার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

তিনি আরও বলেন, রক্তদানের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও আগ্রহ বাড়লেও মরণোত্তর চক্ষুদানের ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত সচেতনতা তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকে মরণোত্তর চক্ষুদানে আগ্রহী হন না। এ বিষয়ে গ্রামগঞ্জের মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম শাকিল ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক কাশেম, মহাসচিব ও উদযাপন উপকমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিচতলার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

এতে অংশগ্রহণকারীরা রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category