• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন

ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার: বিশ্বকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান-ওয়াশিংটন / ১০৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির চরম অনিশ্চয়তায় ঢাকা। বুধবার ইরানের সামরিক কমান্ড থেকে বিশ্ববাসীকে এক ভয়াবহ বার্তা দেওয়া হয়েছে—তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে। পারস্য উপসাগরে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যময় হামলার পর তেহরান এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করল।

জ্বালানি বাজারে যুদ্ধের প্রভাব

পেন্টাগন মঙ্গলবার ইরানে চালানো তাদের বিমান হামলাকে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে তীব্র’ বলে দাবি করলেও, ইরান বুধবার পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি ঝরিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়লেও এ সপ্তাহের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো এক ‘জাদুকরী সমাধানের’ আশায় বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল। কিন্তু বুধবারের এই চরম বার্তার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে আবারও ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‘নিরাপত্তা নেই, তেলও নেই’

ইরানের সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি সরাসরি ওয়াশিংটনকে লক্ষ্য করে বলেন,

“তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। জ্বালানির দাম নির্ভর করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর, যা আপনারা অস্থিতিশীল করেছেন।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকেও হামলার নিশানা করা হবে। এমনকি সাধারণ মানুষকে এসব ব্যাংক থেকে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অচল হরমুজ প্রণালি ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা

পারস্য উপসাগরে বুধবার অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর আঘাতে আরও তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে। ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ করার দাবি করলেও বাস্তবে এই সরু জলপথ এখন পুরোপুরি অচল। ১৯৭০-এর দশকের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর বিশ্ব আর কখনো এমন জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়নি।

বৈশ্বিক মজুত থেকে তেল ছাড়ের পরিকল্পনা

পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের কৌশলগত মজুত থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ের সুপারিশ করতে যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল পরিমাণ তেল বাজারে আসতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে, যা বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল সংকটে খুব একটা কাজে নাও আসতে পারে।

ইসরায়েলের গোপন অস্বস্তি

যুদ্ধ যখন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তখন ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সুর বদলে যেতে শুরু করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইরানি শাসনব্যবস্থা এই যুদ্ধে টিকে যেতে পারে। ওয়াশিংটনও এই মুহূর্তে সামরিক অভিযান শেষ করার মতো কোনো অবস্থানে নেই বলে মনে করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category