সত্তরের দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে খাল কাটার দৃশ্য দেশের মানুষের মনে এখনও গেঁথে আছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের জয়নগর খালটি সেই স্মৃতিরই একটি অংশ, যা আজ দখল আর দূষণে মৃতপ্রায়। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর বাবার সেই পথ অনুসরণ করেই দেশজুড়ে ফের বিশাল খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকার এই প্রকল্প। আজ (১৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালের ১২.২০ কিলোমিটার পুনঃখননের মাধ্যমে ৫৪ জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
খননের লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন করা হবে।
খরচ ও তদারকি: প্রতি কিলোমিটার খননে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে প্রধান করে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।
জনসম্পৃক্ততা: শুধু যন্ত্র বা ড্রেজার দিয়ে নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে। এতে করে সাধারণ শ্রমিকদের পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবেন, যা ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বহুমুখী সুবিধা:
কৃষিকাজে সেচের সুবিধা বাড়ানো এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো।
খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা।
খননকৃত জলাধারে মাছ চাষ ও হাঁস পালনের সুযোগ সৃষ্টি।
আগামী ৫ বছরে খালপাড় ধরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।
উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
দখল ও দূষণ রোধ: জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর মতে, শুধু খাল কাটলেই হবে না; এর দখল ও দূষণ কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে। দেশে হাজার হাজার অবৈধ দখলদার রয়েছে, যাদের না তাড়ালে এই প্রকল্প সফল হবে না।
দুর্নীতির শঙ্কা: শুধু রাজনৈতিক লোক দেখানো বা দলীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা দেওয়ার হাতিয়ার যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ের চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের আসল সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে।
পরিশেষে, ইতিহাস বলছে খাল খনন কর্মসূচি জিয়াউর রহমানকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, তারেক রহমান এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে কতটা সফলভাবে খালগুলোর প্রাণ ফেরাতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন।