• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন

১০ দফা মেনে নিলেন ট্রাম্প: যুদ্ধবিরতিকে ‘কূটনৈতিক বিজয়’ বলছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান / ৭০ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের বিশাল এক কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে উদযাপন করছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০টি প্রধান দাবির সবকটি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

চুক্তিকে ‘বিজয়’ বলার কারণ

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার আগেই তেহরান এতে সম্মতি দিয়েছিল। এই আগাম সম্মতি আলোচনার টেবিলে ইরানকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ১০ দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ইরানের দেওয়া ১০ দফা দাবির চূড়ান্ত তালিকা

যে শর্তগুলোর ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে তেহরান

দফার ক্রম দাবির মূল বিষয়বস্তু
০১ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিজস্ব ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ বাস্তবায়ন।
০২ মধ্যপ্রাচ্যের সকল ঘাঁটি থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
০৩ হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা চিরতরে বন্ধ করা।
০৪ ইরানের ওপর থেকে সকল প্রকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
০৫ বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া।
০৬ জাতিসংঘ ও IAEA-এর সকল নেতিবাচক প্রস্তাবনা ও অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল।
০৭ বিগত বছরগুলোর ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
০৮ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকারের নিরঙ্কুশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
০৯ চুক্তিটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘বাধ্যতামূলক রেজুলেশন’ হিসেবে পাস করা।
১০ ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে স্থায়ী সমাধানের গ্যারান্টি।
* সূত্র: আল জাজিরা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, ইরান।

বিশ্লেষকদের মতামত
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মতো একজন নেতার পক্ষ থেকে ইরানের এই কঠোর শর্তগুলো মেনে নেওয়াটা অভাবনীয়। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনো এই দাবিগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। যদি এই শর্তগুলো কার্যকর হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মার্কিন প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং ইরানের আঞ্চলিক ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category