• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন

খুলছে হরমুজ প্রণালি: দিনে ১৫টির বেশি জাহাজ নয়, গুণতে হবে মোটা অংকের টোল

Reporter Name / ৭০ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তবে আগের মতো অবাধ যাতায়াতের সুযোগ থাকছে না এই জলপথে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে পার হতে পারবে এবং প্রতিটি জাহাজকে কঠোর প্রটোকল ও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ‘তাস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নতুন বিধিমালার কথা জানান। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘোষণাটি আসলো।

কঠোর প্রটোকল ও নতুন রুট

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে প্রণালিটি পরিচালিত হবে। আইআরজিসি বুধবার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে জাহাজ চলাচলের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে।

  • রুট পরিবর্তন: আগে জাহাজগুলো ওমান উপকূলের কাছাকাছি রুট ব্যবহার করলেও এখন সেগুলোকে আরও উত্তর দিকে, অর্থাৎ ইরান উপকূলের কাছ দিয়ে চলতে হবে।

  • কারণ: আইআরজিসি জানিয়েছে, প্রধান ট্রাফিক জোনে জাহাজ বিধ্বংসী মাইন থাকার ঝুঁকি থাকায় নিরাপত্তার খাতিরেই এই নতুন রুট অনুসরণ করতে হবে।

  • কারিগরি সীমাবদ্ধতা: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, জাহাজ চলাচল অবশ্যই সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতা বিবেচনা সাপেক্ষে নিয়ন্ত্রিত হবে।

টোল আদায়ের পরিকল্পনা

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এই জলপথ ব্যবহারের জন্য প্রতিটি জাহাজ থেকে বিপুল অংকের টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান। ১. এককালীন টোল: প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল চাওয়া হতে পারে, যা ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করার সম্ভাবনা রয়েছে। ২. তেল টোল: অন্য একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনের জন্য ১ ডলার করে টোল নেওয়া হবে। সংগৃহীত এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

পটভূমি ও সংকটের তীব্রতা

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে সরবরাহ হয় বলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে বোমা হামলা চালানো হবে। তবে গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

হরমুজ প্রণালি: ইরানের নতুন বিধিনিষেধ

দৈনিক জাহাজ চলাচল সর্বোচ্চ ১৫টি (পূর্বে ছিল আনলিমিটেড)।
টোল বা মাশুল প্রতি জাহাজ ২০ লাখ ডলার অথবা ব্যারেল প্রতি ১ ডলার।
নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
নতুন ট্রাফিক রুট ইরান উপকূলের নিকটবর্তী উত্তর রুট।
শর্তাবলী সশস্ত্র বাহিনীর আগাম অনুমতি ও বিশেষ প্রটোকল বাধ্যতামূলক।
বিশ্লেষণ: জ্বালানি যুদ্ধকে নতুন কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, নৌপরিবহন এখনই যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে না। এই সীমিত নৌচলাচল ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান মূলত বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর চাপ বজায় রাখতে চায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category