• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
Headline
দেশের কোটি কোটি ডলার পাচার! : কারা খেলল এই ভয়ংকর খেলা — আর কীভাবে ফিরবে সেই সম্পদ? ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ছাড়িয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান রাখাইনেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ ও ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর ঘোষণা: উপজেলা চিকিৎসকদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের ২ মাসেই সরকারের ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন: মাহদী আমিন ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু রাজনীতির ‘বসন্তের কোকিল’ বনাম তৃণমূলের দীর্ঘশ্বাস: টিকে থাকবে কে? তেলতেলে বিশ্বনীতি: আবারও কি বিদ্যুৎ যন্ত্রণায় বাংলাদেশ! এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন স্রেফ গুজব, আদর্শ বিকিয়ে জোটে যাব না: রুমিন ফারহানা কোচিং বাণিজ্য রোধ ও স্কুল সংস্কারে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: ববি হাজ্জাজ

পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগের উদ্যোগ

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের জনবল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রচলিত নিয়োগবিধিতে পরিবর্তন এনে সরাসরি চার হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)-এর ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টিরও প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে পুলিশ সদর দপ্তর।

তবে বাহিনীর এই কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ ঘিরে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে পদোন্নতি নিয়ে একধরনের শঙ্কা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পলিসি গ্রুপের বৈঠক ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব

গত ৬ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সভাপতিত্বে পলিসি গ্রুপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি, পিবিআই, সিআইডি), র‍্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ করতে জনবল বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। তবে বিদ্যমান পুলিশ রেগুলেশনস (পিআরবি), ১৯৪৩ অনুযায়ী এসআই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রচলিত নিয়মে এসআই পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নতুন প্রস্তাবে এই কোটা সংকুচিত বা বিলুপ্ত করে সরাসরি নিয়োগের পথ প্রশস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, এসআই নিয়োগের বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের জন্য একটি খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলেই সরাসরি নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হবে।

সরাসরি নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও আধুনিকায়ন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন ও মাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সাইবার অপরাধ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলোর কার্যক্রম মূলত কেন্দ্রভিত্তিক। ফলে রাজধানীর বাইরের জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনলাইন জিডি, মামলা তদন্ত ও আধুনিক অপরাধ দমনে দক্ষ জনবলের ঘাটতি মেটাতেই মূলত সরাসরি এসআই নিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরাসরি নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ হলে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা ও তদবিরের প্রবণতা কমবে বলে মনে করছে সদর দপ্তর।

অধস্তনদের উদ্বেগ ও পদোন্নতি শঙ্কা

পুলিশ সদর দপ্তরের এই পরিকল্পনায় মাঠপর্যায়ের দেড় লক্ষাধিক কনস্টেবল, নায়েক ও এএসআই পদমর্যাদার সদস্যদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সদস্য পদোন্নতির মাধ্যমে এসআই হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতিমধ্যে ৯৪৬ জন সদস্য এসআই পদে পদোন্নতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী রেঞ্জের এক এএসআই বলেন, “পদোন্নতির মাধ্যমে যাঁরা এসআই হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাঁদের স্বার্থও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁদের পদোন্নতি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া হলে এই উদ্বেগ কমবে।”

এএসপির ৫০০ নতুন পদ সৃষ্টির রূপরেখা

৬ এপ্রিলের বৈঠকেই মধ্যম সারির নেতৃত্ব শক্তিশালী করতে ৫০০টি এএসপি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব ওঠে। আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পুলিশের বিপুলসংখ্যক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অবসরে যাবেন। শূন্যস্থান পূরণ ও অপরাধ দমনে ‘এএসপি ক্রাইম অ্যান্ড অপস’, ‘এএসপি ডিবি’ এবং ‘এএসপি প্রসিকিউশন’-এর মতো নতুন পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তবে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগ দিলে ভবিষ্যতে পদোন্নতিতে চরম জটিলতা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় চাকরিতে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছেন না।

এএসপি পদ সৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করতে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করবে, যা পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category