• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ বার্তা দুই দশক পর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে পৌর নির্বাচন হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায়: ইরানের কোষাগারে জমা হলো প্রথম আয় গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৯৫ শান্ত-লিটনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ডকে ২৬৬ রানের টার্গেট দিলো বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কিলোমিটারে বাস ভাড়া বাড়ল ১১ পয়সা এক রিফাইনারিতেই খুঁড়িয়ে চলছে পাঁচ দশক: জ্বালানি নিরাপত্তায় সেনাপ্রধানের উদ্বেগ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে যাচ্ছে বাংলাদেশের জরুরি ওষুধ অযোগ্য উপদেষ্টার খামখেয়ালির বলি শিশুরা!

খাদের কিনারে অর্থনীতি: ড. ইউনূসের আমল নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক গভীর সংকটের মুখে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই থেকে জানুয়ারি) সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাত একপাশে ছিটকে পড়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬ শতাংশে। ব্যাংকগুলোর হাতে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়ার মতো টাকা নেই। এদিকে সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদের হার বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়া বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। গৃহনির্মাণ, ছোট ব্যবসা বা পড়াশোনার জন্য ঋণ নিতে গেলে সুদের বিশাল বোঝা টানতে হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে, সরকার যে বিপুল টাকা ঋণ নিল, তা গেল কোথায়? এই টাকা দিয়ে কমপক্ষে তিনটি পদ্মা সেতু করা যেত। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের বেতনও বাড়ানো হয়নি।

রাজস্ব আদায়ে ধস ও কর ফাঁকির অভিযোগ

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কাছে দৈনন্দিন কাজ চালানোর মতো টাকা ছিল না, কারণ কাঙ্ক্ষিত কর বা রাজস্ব আদায় হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের আলোচিত মামলাগুলো থেকে নিজেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই কর্মকাণ্ডকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, ড. ইউনূস যেমন নিজের প্রতিষ্ঠানের কর না দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, তেমনি দেশের কর আদায় ব্যবস্থাটিকেই দুর্বল করে দিয়েছেন। আইএমএফের চাপে এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) বিভক্তির উদ্যোগ নিলেও কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এর পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ শতাংশ কম। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, এনবিআর বিভক্ত করায় রাজস্ব আদায়ে কোনো প্রভাব পড়বে না, কিন্তু বাস্তবে পুরো উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

অর্থনীতির চার বড় সংকট

ড. ইউনূসের আমলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে মূলত চারটি বড় সংকট দেখা গেছে:

  • চরম মূল্যস্ফীতি: তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মূল্যস্ফীতি ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। ক্ষমতা ছাড়ার সময় তা কিছুটা কমে ৮.৫ শতাংশে দাঁড়ালেও, এটি এখনো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। নিত্যপণ্যের চড়া দামে সাধারণ মানুষ জর্জরিত।

  • বিনিয়োগে স্থবিরতা: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ কমার রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থান কমেছে এবং দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

  • অহেতুক সরকারি ব্যয়: অন্তর্বর্তী সরকারের আকার ছোট হলেও, ড. ইউনূসের বাজেটে আগের বছরের তুলনায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বেশি ‘সরকার পরিচালনা খরচ’ ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের উন্নয়ন ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। অর্থাৎ, উন্নয়ন কমিয়ে নিজেদের খরচ বাড়ানোর এই নীতি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

  • ব্যাংক খাতের অস্থিরতা ও সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙে পড়া: সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ বলছে, এই আমলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রায় ভেঙে পড়েছে, ফলে হতদরিদ্র মানুষের সরকারি সাহায্য পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

অহেতুক পরিকল্পনাহীন ব্যয় এবং সংস্কারের নামে অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনমান দিন দিন নিচে নামছে।

উত্তরণের উপায় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই করুণ পরিণতি থেকে উত্তরণের জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত করতে হবে এবং কর ফাঁকি কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় বাড়াতে হবে। তবেই সরকারের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং দেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category