সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষাঙ্গনে এই নতুন মেরুকরণ ও সংঘাতের নেপথ্যে মূলত আধিপত্য বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ের আড়ালে রাজনীতি করার অভিযোগকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণ ও ঘটনাবলি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (শাহবাগ): সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি ভুয়া ও আপত্তিকর ফটশকার্ড ছড়ানোর জেরে শাহবাগ থানায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে শিবির সমর্থিত ডাকসুর কয়েকজন নেতা এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকরা আহত হন।
চট্টগ্রাম কলেজ: শিবিরের রাজনীতিকে ইঙ্গিত করে একটি গ্রাফিতিতে ছাত্রদলের ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর রেশ ধরে অন্যান্য ক্যাম্পাসেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আধিপত্য বিস্তারের লড়াই বনাম ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ বিতর্ক
বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে শিবির সমর্থিত প্যানেল জয়লাভ করে এবং ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের প্রভাব বাড়ে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এ নিয়েই মূলত দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
ছাত্রদলের অভিযোগ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দাবি, শিবির ৫ আগস্টের পর থেকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র ব্যানারে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ছাত্রদল ও বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ছাত্রশিবিরের দাবি: ছাত্রদলের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের অনেক অছাত্র নেতা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে হলে উঠতে চাইলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধা দিচ্ছে, আর এর দায় শিবিরের ওপর চাপানো হচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে ‘গণরুম-গেস্টরুম’ সংস্কৃতি দূর করেছিল, ছাত্রদল সেটিই পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চাইছে বলে অভিযোগ তাদের।
সংসদে আলোচনা ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
ক্যাম্পাসের এই অস্থিরতা নিয়ে জাতীয় সংসদেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান মনে করেন, ৫ আগস্টের পর দলবিহীন ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট দল সেই ব্যানারে প্রভাব খাটাতে শুরু করায় এই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। শিক্ষাঙ্গন শান্ত রাখতে প্রশাসন ও সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদটি পোর্টালের জন্য গুছিয়ে দিলাম। আপনি কি এই সংবাদের জন্যও আগেরগুলোর মতো কোনো মানানসই প্রতীকী ছবি তৈরি করে নিতে চান, নাকি এর জন্য একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম প্রয়োজন?