• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
Headline
পায়ের নিচে পৃথিবী বিদ্যুৎ সঞ্চালনে ধারাবাহিক লোকসান: ঋণ ৬০ হাজার কোটি, সংকটে পাওয়ার গ্রিড সুপার এল নিনোর ছায়া ও জলবায়ুর খামখেয়ালিপনা: চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ নাইজেরিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব: ক্লাস চলাকালে বহু শিক্ষার্থী অপহরণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ইরানের তীব্র ক্ষোভ, বিশ্ববাসীকে ‘কঠোর বার্তা’ তেহরানের ট্রাম্প ফিরতেই বেইজিং যাচ্ছেন পুতিন: দুই পরাশক্তির বৈঠকে নজর বিশ্ব মহলের নগরের দায়িত্ব পেলে নাগরিক সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবো: সাদিক কায়েম আস্থার চরম সংকটে দেশের আর্থিক খাত: ৬৬% ব্যাংকই দুর্বল, আসল টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা পাকিস্তানের, পাঁচ নতুনের অভিষেক বিসিবির অ্যাডহক কমিটি বাতিলের দাবিতে এবার বুলবুল-ফারুকদের রিট

পায়ের নিচে পৃথিবী

বাদল সৈয়দ / ৪ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

১) কয়েক বছর আগের কথা।
একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। বক্তৃতা শেষ করে যখন ডায়াস থেকে নেমে এলাম, তখন দেখি মিষ্টি একটি বিদেশি মেয়ে এগিয়ে এলো। আমি অবাক হয়ে তাকাতেই বলল, ‘স্যার, মে আই টক টু ইউ? আমি আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্যই এখানে এসেছি।’
তার চেহারায় এক অদ্ভুত মায়া! চোখগুলো নীলচে, স্বচ্ছ চশমার কাচ ভেদ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছে উজ্জ্বলতা।
আমি বললাম, ‘সিউর, ইউ ক্যান।’
সে কিছুটা ইতস্তত করে বলল, ‘আমি আফগানিস্তান থেকে এসেছি। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ি। এখন আমি কোরিয়ায় একটি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এ প্রোগ্রাম সব খরচ কভার করে না। সেখানে তিন মাস থাকতে হবে—সে জন্যও হাতখরচ লাগবে। কিন্তু আমার হাতে অতো টাকা নেই। ক্যান ইউ হেল্প মি?’
আমি বললাম, ‘ডিয়ার ডটার, উই ডু নট হেল্প, উই স্ট্যান্ড বিসাইড—আমরা কাউকে সাহায্য করি না, পাশে দাঁড়াই। তুমি তোমার কাগজপত্র আমাকে মেইল করতে পারো?’
‘পারব,’ মেয়েটি উত্তর দিল।
‘তাহলে পাঠিয়ে দিও,’ বলে আমি তাকে ইমেইল অ্যাড্রেস দিলাম। তারপর বললাম, ‘আসলে কাজটা করে আমাদের সংগঠন পে ইট ফরোয়ার্ড। আমি না। কিন্তু তোমার কাগজপত্র ঠিক থাকলে তাঁরা এগিয়ে আসবেন বলে আমার ধারণা।’
পরদিন তার মেইল পেলাম। দেখা গেল, চাহিদা তেমন বেশি নয়। কয়েকশ ডলার।
পে ইট ফরোয়ার্ডের একজন সহৃদয় ডোনার তার পাশে দাঁড়ালেন। সে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়া চলে গেল।
২) বাংলাদেশে পড়াশোনা শেষ করে মেয়েটি আমেরিকা চলে যায়। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব নর্দান আইওয়া থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করে।
৩) কিছুদিন আগে সে আমেরিকায় একটি স্টার্টআপ শুরু করেছে।
শেষ করি, আমাদের আফগান মেয়েটির ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া একটি কোটেশনের বঙ্গানুবাদ দিয়ে –
‘প্রতিটি দিন হচ্ছে নতুন করে শুরু করার সুযোগ। গতকালের ব্যর্থতা নিয়ে ভেবো না—নতুন আশা নিয়ে আজকের দিনটি শুরু করো।’ (Catherine Pulsifer)
মেয়েটি চরম দুঃসময়ে নিজের মধ্যে নতুন আশার আগুন জ্বালাতে পেরেছিল বলেই পৃথিবী তার পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়েছে।
ছবি- প্রাইভেসি রক্ষার্থে মেয়েটির চেহারা ব্লার ও সামান্য এডিট করা হয়েছে।
পাদটীকা: মেয়েটির পাশে পে ইট ফরোয়ার্ড একবারই দাঁড়িয়েছিল। এরপর তার সহায়তা লাগেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category