• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

৫-১০ বছরের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ: ৮টি কৌশল

বাদল সৈয়দ / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

আমার বন্ধু এবং সহকর্মী ইকবাল হোসেন তাঁর মেয়ের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য নিজেই একটি চমৎকার খেলা আবিষ্কার করেছিলেন। মেয়ের বয়স তখন চার-পাঁচ। তিনি আর্ট পেপার কেটে ছোটো ছোটো কার্ড বানাতেন। তারপর সেগুলোতে ১,২,৩ এসব সংখ্যা লিখতেন। তারপর কার্ডগুলো ছুঁড়ে দিয়ে মেয়েকে বলতেন- ‘মা, দেখি ২ লেখা কার্ডটা খুঁজে আনো তো। মেয়েটি ছুটে গিয়ে কার্ডটি নিয়ে আসত। এভাবেই সে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত শিখে ফেলেছিল।
আমার বন্ধুর বড় আদরের মেয়েটি
নিজ যোগ্যতায় বিদেশে পড়াশোনা করে এখন প্রতিষ্ঠিত।
ইকবাল ভাইয়ের কৌশলটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। মূলত সেই স্মৃতি থেকেই এই লেখার উৎপত্তি।
আপনার শিশু সন্তানের মস্তিষ্ক চকচকে করার জন্য নিচের কৌশলগুলো কাজে লাগাতে পারেন।
১) গল্প এবং প্রশ্ন-
তাকে প্রতিদিন একটি গল্প পড়ে শোনান এবং তা থেকে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করুন।
যেমন হয়তো রাজপুত্রের গল্প শোনাচ্ছেন। এক পর্যায়ে থেমে বললেন-
‘বলো তো রাজপুত্র কেন অভিমান করেছে?’
‘তার মায়ের এখন মান ভাঙানোর জন্য কী করা উচিত?’
এ ধরনের প্রশ্ন করলে সে নিজে নিজে ভাববে এবং উত্তর দেবে। এতে তার যে কোনো ব্যাপার অ্যানালাইসিস করার ক্ষমতা বাড়বে।
২) ফলমূল এবং গণনা-
বাসায় ফলমূল আনলে তা তাকে গুনতে দিন। মস্তিষ্ককে মাখন কাটার ছুরির মতো ধারালো বানাতে অঙ্কের চাইতে ভালো কিছু নেই। এ ধরনের ছোটোখাটো গোনা-গুনতির কাজ ওর ব্রেইনকে চিরদিনের জন্য তীক্ষ্ণ করবে। (ফলমূল ছাড়া যে কোনো জিনিস দিয়েই এটি করা যায়)
৩) কয়টি এলো- কয়টি গেলো?
ফলমূল গুনেই শেষ করবেন না। এরপর তা যতবার খাওয়া হবে ততবার ওকে গুনে বলতে বলবেন কটি বাকি আছে। হিসাব চর্চা শিশুর মস্তিষ্ককে ধারালো করার অন্যতম সেরা পদ্ধতি।
৪) আঁকুক খাতার পাতায়
ওকে যে কোনো কিছু আঁকতে বলুন। যা ওর খুশি। নিজে বিষয় ঠিক করে দেবেন না। এতে ওর কল্পনাশক্তি বাড়বে। মগজকে বারুদ বানাতে কল্পনাশক্তির বিকল্প নেই।
৫) গানে-লয়ে ফুটুক ফুল
ওকে সঙ্গে নিয়ে দুজনে মিলে ছড়াগান গাইলে ওর স্মৃতিশক্তি বাড়ে। কারণ গান বা ছড়ার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে ওকে গান শুনতে হচ্ছে, মনে রাখতে হচ্ছে। এটা স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর অব্যর্থ টনিক। প্রথম প্রথম ও ভুল করবে- এটাও শিক্ষার অংশ, ওকে নিরুৎসাহিত করবেন না।
৬) পোশাকেই বুদ্ধি খোলে
ওর জন্য জামা-কাপড় কিনতে গেলে ওকেই পছন্দ করতে দিন। এতে ওর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে।
৭) দরদামেই চোখ খোলে
বাড়ির জন্য কিছু কেনাকাটা করতে গেলে ওকে সঙ্গে নিন। বাজারে দরদাম দেখার অভিজ্ঞতা শিশুদের মধ্যে বাস্তব বুদ্ধি সৃষ্টি করে। ভবিষ্যতে জীবনে চলার পথে ওকে অনেক দরকষাকষি করতে হবে। বাবা-মাকে দোকানির সঙ্গে দরদাম করতে দেখার অভিজ্ঞতা বাকি জীবন বোঝাপড়া করার ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করবে।
৮ )খেলায় খেলায় শিক্ষা
ওকে ব্লক, লুডু, দাবা এগুলো খেলতে দিন। প্রথমে ইকবাল ভাইয়ের যে খেলার কথা বলেছি সেটাও খেলতে পারেন।
আপনার শিশু সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশে এগুলোর অবদান অনবদ্য। যত খেলবে তত ধারালো হবে- সারাজীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে।
আপনার সন্তান হোক জগৎ সেরা।আপনাকে দেখলে লোকজন যেন বলে –
‘উনি অমুকের বাবা, কিংবা উনি অমুকের মা।’
আপনি হোন সন্তানের পরিচয়ে পরিচিত। এর চাইতে গর্বের আর কিছু নেই।
ছবি: বর্ধিত পরিবারের শিশুরা। এরা এখন তরুণ কিংবা কিশোর।

-আসুন মায়া ছড়াই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category