যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের তেল বাণিজ্যকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার এবং দেশটির অর্থনীতিতে চরম আঘাত হানার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশিত নৌ-অবরোধ এবং ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত থাকবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রীর এই বার্তার মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধ আরও কঠোর রূপ নিতে যাচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারি মন্ত্রীর বার্তার মূল বিষয়বস্তু:
বন্ধ হতে পারে তেলকূপ: বেসেন্ট জানান, মার্কিন অবরোধের কারণে আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানের খাড়্গ দ্বীপের তেল ডিপোগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে। দেশের বাইরে তেল সরবরাহ করতে না পারায় তেহরান বাধ্য হয়ে নিজেদের তেলকূপগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। এর ফলে তাদের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎসটি সরাসরি বাধাগ্রস্ত হবে।
‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা চরম অর্থনৈতিক চাপ: ইরানের আর্থিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক ক্ষোভের নীতি গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে তেহরানের দেশ-বিদেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ, অর্থ স্থানান্তর এবং আটকে থাকা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতাকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা হবে।
সহযোগিতাকারীদের জন্য কড়া বার্তা: যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানকেই নয়, বরং যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান এই অবরোধ পাশ কাটিয়ে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে, তাদের ওপরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সরাসরি হুমকি দিয়েছে।
দুর্নীতির সম্পদ ফ্রিজ: ট্রেজারি মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী চৌর্যবৃত্তি ও দুর্নীতির মাধ্যমে যেসব তহবিল গড়ে তুলেছে, তা ‘ইরানের জনগণের পক্ষে’ ফ্রিজ (জব্দ) করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।