• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন

ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন অসম্ভব: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১০২ Time View
Update : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

ইরানের চলমান শাসনব্যবস্থা ও নেতৃত্ব কাঠামো পুরোপুরি বদলে ফেলার যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান শুরু করেছেন, তা অর্জনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক গোপন (ক্লাসিফাইড) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করা প্রায় অসম্ভব।

ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে জানা গেছে, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের (এনআইসি) তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রস্তুত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণ:

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এমনভাবে কাঠামোগত প্রোটোকল তৈরি করে রেখেছে যে, শীর্ষ নেতাদের অপসারণ বা হত্যার পরেও শাসনব্যবস্থা অটুট থাকার ক্ষমতা রাখে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে:

  • ক্ষমতা হস্তান্তর: সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু বা অপসারণের পর দেশটির বিদ্যমান সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমেই পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে, যা শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখবে।

  • বিচ্ছিন্ন বিরোধী শক্তি: ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধী দলগুলো বর্তমানে অত্যন্ত খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, ফলে সামরিক অভিযানের মুখে তাদের পক্ষে ক্ষমতা দখল বা বড় কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটানো অবাস্তব।

নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ও বিতর্ক

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা ও অনুমোদনের শর্ত জুড়ে দিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার পুত্র মোজতবা খামেনেইকে তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি এমন একজনকে নেতৃত্বে দেখতে চান যিনি দেশটির বর্তমান নীতি পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখবেন। অন্যথায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও যুদ্ধে জড়াতে হবে বলে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের এই ধরনের শর্ত এবং হস্তক্ষেপমূলক মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল দেশটির গর্বিত জনগণই নির্ধারণ করবে; এতে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতামত

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সামরিক কৌশল এবং ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে’ বাধ্য করার দাবি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টের এই তথ্য একদিকে যেমন ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে খামেনি-পরবর্তী ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তির সক্ষমতা নিয়েও বিশ্বমহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category