মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন। বুধবার (৬ মে ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এল এপস্টেইনের লেখা কথিত সেই ‘সুইসাইড নোট’। নিউ ইয়র্ক সিটির যে কারাগারে তিনি বন্দি ছিলেন, সেখানকার এক সেলে পাওয়া এই চিরকুটটি তাঁর রহস্যময় মৃত্যুরহস্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনের আত্মহত্যার প্রথম চেষ্টাটি ব্যর্থ হওয়ার পর চিরকুটটি উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। কোনো স্বাক্ষরহীন এই নোটে অত্যন্ত ক্ষোভ ও হতাশা মেশানো ভাষায় লেখা ছিল:
“তারা আমাকে নিয়ে মাসের পর মাস তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি!!! বিদায় নেওয়ার সময়টা নিজের মতো করে বেছে নিতে পারাটা দারুণ একটা ব্যাপার। তোমরা কী চাও আমি কী করব—কান্নায় ভেঙে পড়ব!! এতে কোনো মজা নেই—এসবের কোনো মানে হয় না!!”
এই নোটটির অস্তিত্বের কথা গত সপ্তাহে প্রথম সামনে আনে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস। তারা হোয়াইট প্লেইনস আদালতে এটি প্রকাশের আবেদন জানালে বিচারক সেটির ওপর থেকে গোপনীয়তার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটির মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে এপস্টেইনের ‘সেলমেট’ বা কক্ষসঙ্গী ছিলেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন। টারটাগ্লিওন বর্তমানে চার খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি দাবি করেন, এপস্টেইনের আত্মহত্যার প্রথম চেষ্টার পর তিনি চিরকুটটি পান এবং নিজের আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করেন। ভবিষ্যতে এপস্টেইন যদি তাঁর ওপর হামলার কোনো অভিযোগ তোলেন, তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের হাতিয়ার হিসেবেই এটি রাখা হয়েছিল। আইনজীবীরা পরবর্তীকালে হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এটি এপস্টেইনেরই লেখা।
আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যকার তথ্য গোপন রাখার সাংবিধানিক অধিকার (Attorney-Client Privilege)-এর কারণে টারটাগ্লিওনের আপিল মামলার অংশ হিসেবে এই চিরকুটটি এতদিন আদালতের সুরক্ষিত হেফাজতে ছিল। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের আইনি লড়াইয়ের পর এটি প্রকাশের পথ সুগম হয়। যদিও মার্কিন বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত এই চিঠির সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০১৯ সালে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুকে নিউ ইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনার ‘আত্মহত্যা’ বলে ঘোষণা করলেও তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধান, রাজপরিবারের সদস্য এবং ধনকুবেরদের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অনেকেরই ধারণা, সেই সব প্রভাবশালীদের যৌন কেলেঙ্কারি যাতে ফাঁস না হয়, সে জন্য তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে এপস্টেইন বারবার দাবি করেছিলেন যে তাঁর আত্মহত্যার কোনো ইচ্ছা নেই। এমনকি তিনি তাঁর সেলমেটের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও করেছিলেন। এ অবস্থায় এই নতুন ‘সুইসাইড নোট’টি এপস্টেইনের মানসিক অবস্থা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান