যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার ইরানের খোদ রাজধানী তেহরানের আকাশে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শহরের আকাশে সন্দেহভাজন লক্ষ্যবস্তুর উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারিগুলো সক্রিয় করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোর এমন তৎপরতায় জনমনে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয় মেহের নিউজ এজেন্সি এবং নুর নিউজ নিশ্চিত করেছে যে, সম্ভাব্য যেকোনো আঘাত বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আকাশে শনাক্ত হওয়া ওই বস্তুগুলো মূলত শত্রু পক্ষের নজরদারি ড্রোন বা ছোট আকারের কোয়াডকপ্টার হতে পারে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই রহস্যময় বস্তুর সুনির্দিষ্ট উৎস বা ধরন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে আল জাজিরা ও রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ইরান সাধারণত তাদের আকাশসীমা এবং স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার ফলে অনেক সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তেহরানের মেহরাবাদ বা ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িক ফ্লাইট ওঠানামাও নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
গত কয়েক মাস ধরেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক থমথমে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও সামরিক মহড়া এখন অনেকটাই বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদ্ভূত এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের আকাশসীমা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। আকাশে দেখা দেওয়া বস্তুগুলো কোনো কারিগরি ত্রুটি, প্রতিরক্ষামূলক মহড়া নাকি সত্যি সত্যি কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা—তা এখনো ধোঁয়াশায় ঘেরা থাকলেও, রাজধানীর বুকে এমন সামরিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে, যেকোনো মুহূর্তের সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় নিজেদের আঙুল ট্রিগারেই রেখেছে ইরান।