বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র দুই মাসের মধ্যে কোনো সরকার এত দ্রুত অজনপ্রিয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেছেন, এই স্বল্প সময়ে বর্তমান বিএনপি সরকার যতটা জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, তাতে আগামী ছয় মাসে তাদের পরিণতি কী হবে তা নিয়ে গভীর শঙ্কা রয়েছে।
শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক বিশাল জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এই সমাবেশে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ পরিবর্তনের এক নতুন স্বপ্ন দেখেছিল। জনগণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল, এই দেশে আর কখনো কোনো স্বৈরতন্ত্রকে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিজ্ঞা থেকেই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রতিটি পদক্ষেপে বর্তমান বিএনপি সরকার সেই সংস্কার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের প্রবল চাপের মুখে বিএনপি একপর্যায়ে ঐকমত্য কমিশনে আসতে বাধ্য হলেও, সেখানে এসে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা অসম্মতি জানিয়েছে। এরপর রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা গণভোটে রাজি হলেও, নির্বাচনের পরপরই সেই গণভোটের রায়কে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা শুরু করেছে। নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন, যে রাজনৈতিক দলটির জন্মই হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে, আজ তারাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণভোটকে অস্বীকার করে চরম স্ববিরোধিতার পরিচয় দিচ্ছে।
বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থা ও নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে দলীয়করণ করছে, যা দেশকে পুনরায় আওয়ামী লীগের দেখানো স্বৈরাচারী পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলেও, সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে দাঁড়িয়ে এসব সংকট পুরোপুরি অস্বীকার করছেন। বাস্তব সমস্যাগুলো মেনে নিয়ে তা সমাধানের কোনো সদিচ্ছা সরকারের মধ্যে নেই।
বক্তব্যের শেষে সরকারকে সহযোগিতার বিষয়ে বিরোধী দলের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিরোধী দল সর্বাত্মকভাবে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিএনপি সরকার সেই সব সহযোগিতার দরজা একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে এবং একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে।