‘In exams, strategy beats brilliance.’
‘পরীক্ষার হলে মেধা নয় কৌশল জয়ী হয়।’
আজ পরীক্ষায় কী কী কৌশল অবলম্বন করলে ভালো রেজাল্ট করা যায় সে ব্যাপারে বলব। তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে নয়- আমার এক বন্ধুর অভিজ্ঞতা থেকে।
কেন তার অভিজ্ঞতা থেকে বলব?
তার শিক্ষাজীবনের কিছু বিবরণ দেই-
১) ক্লাস ফাইভ ও এইটে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল।
২) এসএসসিতে ও এইচএসসিতে সে বোর্ডে প্রথম দশজনের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ স্ট্যান্ড করেছিল।
৩) অনার্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল।
৪) একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সে মাস্টার্সেও প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল।
৫) কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে খুব ভালো কয়েকটি চাকরি পেয়েছিল। তবে সে চাকরি করেনি। সাহস করে উদ্যোক্তা হওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল। এখন সে খুব সফল ব্যবসায়ী।
সেদিন তার সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল। আমি কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলাম- ‘দোস্ত, তুমি তোমার এতো মেধার রহস্য বলবে? আমি এটা নিয়ে লিখতে চাই।‘
সে হাসতে হাসতে বলল- ‘দোস্ত, তুমি ভুল করছ। আমি অতোটা মেধাবী নই।‘
‘মেধাবী নও? তাহলে এতো ভালো রেজাল্ট কী করে করলে?’
‘কৌশলে। আমি পরীক্ষায় কিছু কৌশল অবলম্বন করতাম- যাতে রেজাল্ট ভালো হওয়া ছিল অবধারিত।‘
‘ভেরি ইন্টারেস্টিং! সেগুলো বলবে? আমি ছাত্রছাত্রী ও তাদের বাবা-মায়ের সাথে শেয়ার করব।‘
সে তার কৌশলগুলো বলল। সহজ কিন্তু অসাধারণ কৌশল।
সে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে কোনো ভূমিকা না লিখে প্রথমে একটি বক্স আঁকত। তারপর সে বক্সে শিরোনাম দিতো- ‘প্রশ্নের উত্তরের কাঠামো।’
তারপর সেই বক্সে তার লেখা উত্তরের সারাংশ লিখে দিতো। এতে দুটো লাভ হতো-
পরীক্ষক খাতা নিয়েই ভাবতেন- ‘আরে! এ ছেলের উপস্থাপন তো ভিন্ন ধরনের!’
তিনি একধরনের মুগ্ধতা নিয়ে খাতা দেখা শুরু করতেন।
পরীক্ষক পুরো উত্তর না পড়েই বক্সে লেখা সারাংশ পড়েই বুঝে যেতেন কী লেখা হয়েছে।
সে উত্তরের শেষে ‘উপসংহার’ লিখত না। তার বদলে লিখত ‘পর্যালোচিত মতামত।‘
সবাই যখন উপসংহার লিখত, তখন তার শেষ করার ভিন্ন স্টাইল স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষককে মুগ্ধ করত।
প্রশ্নোত্তরের শুরু এবং শেষ যার এত আলাদা তাকে স্বাভাবিকভাবেই মুগ্ধ পরীক্ষক কিছু বেশি নম্বর দিতেন।
সে অঙ্ক ভিত্তিক পরীক্ষার উপর গুরুত্ব বেশি দিতো। কারণ অঙ্ক সঠিক হলে পুরো নম্বর পাওয়া যায়। থিউরিটিক্যাল পরীক্ষায় কখনোই পুরো নম্বর পাওয়া যায় না।
নম্বর বেশি পাওয়ার জন্য সে অসাধারণ একটি
সাইকোলোজিক্যাল গেম খেলত। তা হলো-
যে পরীক্ষায় বর্ণনামূলক এবং অঙ্ক এই দুধরনের প্রশ্ন থাকতো সেখানে সে বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য প্রথম কয়েকটি পাতা খালি রাখত। তারপরের পাতাগুলোতে অঙ্কের উত্তর লিখত। কারণ পরীক্ষায় মাথা ঠান্ডা থাকতে থাকতে অঙ্ক করে ফেলা ভালো। অঙ্ক শেষ করে সে প্রথমদিকে রেখে আসা খালি পাতায় বর্ণনামূলক উত্তর দিতো।
উত্তরটি অসাধারণ-
তা হলো, প্রথমে অঙ্কের উত্তর দিলে এবং সেগুলো ঠিক হলে স্বাভাবিকভাবেই খুব ভালো নম্বর উঠবে। তাই অঙ্ক দেখা শেষে থিউরিটিক্যাল প্রশ্নে নম্বর দেওয়ার সময় পরীক্ষক ভাবতে পারেন- ‘এ ছাত্র তো অঙ্কে খুব ভালো নম্বর পেয়েছে- থিউরিতে কিছু কম নম্বর দিলে সমস্যা নেই।’
এরকম ভেবে হয়ত তিনি থিউরিতে নম্বর দিতে কার্পণ্য করতে পারেন। কিন্তু প্রথমদিকের পাতায় লেখা বর্ণনামূলক প্রশ্নের উত্তর দেখার সময় তার মাথায় এধরনের চিন্তা আসত না। কারণ ছেলেটি যে অঙ্কে শতভাগ নম্বর পাবে তা তিনি জানেন না। তাই তিনি যা প্রাপ্য সেই নম্বরই দিতেন। তারপর অঙ্কের উত্তর সঠিক হলে পুরো নম্বর দেওয়া ছাড়া তাঁর উপায় থাকত না। এতে রেজাল্ট ভালো হওয়া ছিল প্রায় অবধারিত।
চমৎকার একটি কৌশল তাই না?
তার উত্তরপত্রে মার্জিন আঁকা থাকতো। কাটাছেঁড়া কম থাকত। খাতা থাকত ঝকঝকে।
তার টার্গেট থাকতো ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্র কিংবা ছাত্রীর চাইতে প্রতি পরীক্ষায় কমপক্ষে দশ নম্বর বেশি পাওয়া। তাই সে তাদের পরীক্ষায় উত্তর লেখার ধরন আগেই বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করত। তারপর তাদের চেয়ে ভালোভাবে উত্তর লিখত। এতে সবসময় দশ নম্বর বেশি হয়ত পেতো না। কিন্তু কিছু নম্বর বেশি পেতো। তার মানে সে টার্গেট করত সেরাদের, তারপর তাদের ডিঙিয়ে যেত।
৭) প্রিপারেশন, প্রিপারেশন, প্রিপারেশন
তার মতে কোনো কৌশলই কাজ দেবে না যদি পরীক্ষার জন্য রুটিন মেনে প্রস্তুতি না নেওয়া হয়। সঠিক উত্তর যদি লিখতেই পারা না যায়, কৌশল প্রয়োগের সুযোগ কোথায়?
একটানা কথা বলে থামল। তারপর বলল- ‘দোস্ত, আজ রাখি। একটা জরুরি কাজে বের হবো।’
আমি বললাম-‘ জাস্ট লাস্ট কোশ্চেন। অন্তত আমি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য এত কৌশল নিয়ে ভাবিনি। তুমি ভাবলে কেন?’
ও উত্তর দিলো- ‘প্রতিটি পরীক্ষা ছিল আমার কাছে আলাদা আলাদা যুদ্ধ। এবং এই যুদ্ধে জিততে ভালো রণকৌশল লাগবে। নয়ত আশানুরূপ ফল হবে না। এ কারণেই অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে পরীক্ষায় ভালো করতে পারে না। কারণ ভালো নম্বর পেতে হলে ভালো কৌশলও লাগে। ইট ম্যাটারস, দোস্ত।‘
প্রতিটি পরীক্ষা আলাদা আলাদা যুদ্ধ!
আমি তো এভাবে কখনো ভাবিনি!