ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জি’-এর সমীকরণ ছিল বেশ নাটকীয়। নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল মিসর ও ইরান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে মিসর। অন্যদিকে, জয়সূচক গোল বাতিল হওয়ায় ইরানকে এখন তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলগুলোর তালিকার দিকে।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে ইরানের খেলোয়াড় শোজায়ে খলিলজাদেহ বল জালে জড়ালে গ্যালারিতে উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই আনন্দের স্থায়ীত্ব ছিল ক্ষণিকের। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তিতে দেখা যায় গোলটি অফসাইড ছিল। ভিএআরের এই সিদ্ধান্তে জয়বঞ্চিত হয় ইরান, আর সেই সঙ্গে সরাসরি নকআউটে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের।
গ্রুপ ‘জি’-তে ৫ পয়েন্ট নিয়ে মিসর ও ইরান সমান অবস্থানে থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান দখল করে বেলজিয়াম। নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ ব্যবধানে উড়িয়ে বেলজিয়াম শীর্ষে থাকলেও দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে মিসর। নকআউট পর্বে তারা মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়ার। এই প্রথমবার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে নকআউটে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে মিসর। পাশাপাশি, টানা তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকার অনন্য কীর্তিও গড়েছে তারা।
তবে মিসরের জন্য এই সাফল্যের দিনে দুঃসংবাদও ছিল। ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন দলের প্রধান তারকা ও অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। এছাড়া শুরুর দিকেই ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আবদেলমোনেম চোট পেয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ইনজুরি নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে মিসরীয় শিবিরকে।
ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা হয়েছেন ইরানের রামিন রেজাইয়ান। কিন্তু ভিএআরের সিদ্ধান্তের হতাশায় পুরস্কার গ্রহণ করার সময় তাকে ছিল বেশ নিরুত্তাপ। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর ইরানের খেলোয়াড়দের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়, আর ডাগআউটে কোচ আমির ঘালেনোয়িকে দেখা গেছে নিস্তেজ হয়ে বসে থাকতে।
বর্তমানে ইরান গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকলেও, নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা এখনো তাদের ৯২ শতাংশ। এখন অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে তারা। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম নকআউট পর্বের স্বাদ পেতে ইরান সমর্থকরা এখন চরম উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করছে শেষ সমীকরণের জন্য।