• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
Headline
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সরকারের নানা কর্মসূচি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন আরব জোটের, কোণঠাসা নেতানিয়াহু ৩০ বিলিয়নের নিচে রিজার্ভ, তবু মেটানো যাবে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় গডফাদার ১ হাজারের বেশি: কোটি মাদক জব্দের পরও বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে ৮৫ শতাংশ ৩ বছর পরপর হালনাগাদ হবে সরকারি নির্মাণের দর, ৬ মাসে ডিজিটাল ব্যবস্থা ৩ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্সেও কাটছে না চাপ ঝুলে আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার আবেদন: এনআইডি সংশোধনের নামে সক্রিয় ভয়ংকর চক্র বিপ্লব ও সংহতি দিবস : জিয়া জাতির নির্ভরতার মহান কাণ্ডারী রাজধানীর ৫৭ ওয়ার্ডের ১৪ শতাংশ বাড়িতে লার্ভা: ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ২৯টি ঘুড়ির নাটাই আপনার হাতে

শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বহুমুখী সহযোগিতা বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে: শিক্ষামন্ত্রী

Reporter Name / ৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, দেশের প্রাথমিক স্তর থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চীন সরকারের এই সহযোগিতা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ডেমরার মাতুয়াইলে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ‘লাইটিং আপ দ্যা ফিউচার’ শীর্ষক স্মার্ট ক্লাসরুম অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লাসহ প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হয়েছিল। ভবিষ্যতে শিক্ষা, প্রযুক্তিসহ বহুমুখী খাতে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের এই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় ও জোরালো করবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরকালে শিক্ষাসহ বহুমুখী খাতের উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন, যা আগামীর বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বেইজিং এগ্রিমেন্টের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ মানব উন্নয়নে চীনের সাথে ব্যাপক কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ দেশের আটটি বিভাগ ও কক্সবাজারসহ মোট নয়টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চীনা কারিকুলাম, ল্যাব, শিক্ষক এবং সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের প্রায় ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাইনিজ ভাষা শিক্ষা চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

চীন একমাত্র দেশ যারা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তর থেকে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বছর থেকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ল্যাব স্থাপন করা হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং শিক্ষার্থীদের এক বছর নষ্ট হওয়া রোধে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সাপ্লিমেন্ট পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। যাতে তাদের সেশনজট তৈরি না হয়।

এছাড়া বিগত পরীক্ষার ফলাফলের বিষয়ে তিনি বলেন, অতিমূল্যায়িত ফলাফল নয়, বরং শিক্ষার প্রকৃত চিত্র ও মান যাচাই করে সরকার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেবে।

অনুষ্ঠানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং বলেন, চীনের সেরা কম্পিউটার কোম্পানি হুয়াওয়ের তৈরি দুটি স্মার্ট ক্লাসরুম আজ এই স্কুলে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল বিশ্ব ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নতুন দুয়ার খুলে দেবে।

চীনের জনগণ ও সিপিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এসব উপহার বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রগতির সুবাদে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় বন্ধুত্ব আগামী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আরও জোরদার হবে।

একইসাথে তিনি স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চীন ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান এবং চীনা জনগণের হৃদয়ে বাংলাদেশের প্রতি থাকা ভালোবাসা সরেজমিনে অনুভব করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মার্ট ক্লাসরুম ও শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপকরণের মধ্যে রয়েছে— ৫০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ৪৮ সেট স্টুডেন্ট ডেস্ক ও চেয়ার, একটি হুয়াওয়ে স্মার্টবোর্ড এবং চার সেট এয়ার কন্ডিশনার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি করে ওয়ার্ম ওয়াটার পট, পেন্সিল বক্স ও নোটবুক এবং খেলাধুলার বিভিন্ন শিক্ষা ও সহায়তা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category