জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে হঠাৎ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটে।
কী ঘটেছিল আশুগঞ্জে? জানা যায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে আশুগঞ্জ-ভুলতা ৪০০ কেভি জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে লাইনটি বিকল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিদ্যুতের লোড কমাতে তাৎক্ষণিকভাবে আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট ‘ইস্ট ইউনিট’ এবং ৪৫০ মেগাওয়াট ‘নর্থ ইউনিট’ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদ একরাম উল্লা জানান, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে বাধ্য হয়ে ইউনিট দুটি বন্ধ করতে হয়েছে। তবে ইফতারের পরপরই নর্থ ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি সম্পূর্ণ মেরামত করে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
রাজধানীতে প্রভাব ও বিদ্যুৎ ঘাটতির চিত্র সঞ্চালন লাইনের এই ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে মুহূর্তের মধ্যেই প্রায় ৫৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে রাজধানীতে। জুমার নামাজের পর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বনানী, গুলশান ও বনশ্রীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
গ্রাহক ভোগান্তি: রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা তৌহিদ হোসেন জানান, জুমার নামাজের পর থেকে তাদের এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: ডিপিডিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশুগঞ্জের ইউনিট দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) থেকে ডিপিডিসিকে লোড কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মূলত এ কারণেই বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হয়।
পরিসংখ্যানে গ্রিডের ওঠানামা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে লোডশেডিংয়ের কথা উল্লেখ না থাকলেও, তাদের ঘণ্টাভিত্তিক তথ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপক তারতম্য লক্ষ্য করা যায়:
দুপুর ১টা: গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১১,৪৭৪ মেগাওয়াট।
দুপুর ২টা: সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ১০,৮৫৫ মেগাওয়াটে (মাত্র ১ ঘণ্টায় ৬১৯ মেগাওয়াট ঘাটতি)।
বিকাল ৪টা: পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়ে সরবরাহ পৌঁছায় ১১,৩১২ মেগাওয়াটে।
পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর রাজধানীতে তীব্র বৃষ্টিপাত শুরু হলে বিদ্যুতের চাহিদা প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা কমে আসে।
প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,৫৮০ থেকে ১,৬০০ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি থাকায় স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি থেকে গড়ে ১,২০০ থেকে ১,৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।