• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline
ইসরায়েলে আরও একটি প্যাট্রিয়ট পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সাত বছরে ছয় নির্বাচন, কেন থিতু হতে পারছে না ইসরায়েল? ৫৫ বছরে সবজির দাম স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক লুটপাট করেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই : ইসি সচিব ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ৭ দিনের রিমান্ডে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা শহরে পদ্মা থেকে ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের নতুন প্রকল্প জয়-পুতুলসহ ৮ জনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার

তাসনিম জারার পোস্ট নিয়ে কেন এতো তোলপাড়?

Reporter Name / ১০৮ Time View
Update : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে একটি বাক্য নিয়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বাক্যটি হলো—‘সামনের সারির একটি আসনের বিনিময়ে সব নীতি বিকিয়ে দিলেন।’ নেটিজেনদের একাংশ মনে করেছিলেন, ডা. তাসনিমরা হয়তো কাউকে উদ্দেশ্য করে নীতিহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সম্পূর্ণ পোস্টটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকৃত সত্যটি ছিল অনেকটাই ভিন্ন।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ জুন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে। ওই সমাবেশের মঞ্চে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, মামুনুল হক ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ পুরুষ নেতারা আসন গ্রহণ করলেও নারী নেতৃবৃন্দের জায়গা হয় মঞ্চের সামনে নিচে আলাদা চেয়ারে। এই দৃশ্য নিয়ে এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিন ফেসবুকে একটি ছবিসহ পোস্ট দিয়ে একে ‘প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ‘ব্যাটাগিরি মুর্দাবাদ’ স্লোগান দেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপি থেকে পদত্যাগকারী সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিমরা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে লেখেন, ‘সামনের সারির একটি আসনের বিনিময়ে যে সব নীতি বিকিয়ে দিলেন, যা একসময় আমাদের বিশ্বাস করতে বলেছিলেন।’ তিনি মূলত সামান্তার পোস্টের বিপরীতে নিজের যুক্তি তুলে ধরে বোঝাতে চেয়েছেন যে, যারা ওই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এমন বৈষম্য মেনে নিয়েছেন, তারাই প্রকারান্তরে নিজেদের আদর্শের সঙ্গে আপস করেছেন। অর্থাৎ, একটি আসনের লোভে তারা নিজেদের নীতি বিসর্জন দিয়েছেন—এমন কঠোর সমালোচনাই ছিল তার পোস্টের মূল লক্ষ্য।

দুঃখজনকভাবে, অনেক গণমাধ্যম ডা. তাসনিমজারার এই বক্তব্যের পুরো প্রেক্ষাপট তুলে না ধরে শুধুমাত্র প্রথম অংশটুকু কেটে ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করে। এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং অনেকে মনে করেন, তাসনিমরা নিজেই হয়তো নীতি বিসর্জন দিয়েছেন, যা থেকে শুরু হয় ট্রোলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণ। অথচ তাসনিমরা নিজেই এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে প্রমাণ করেছেন যে, আদর্শের সঙ্গে আপস করার পাত্রী তিনি নন।

এই পুরো ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। যেকোনো তথ্য, উদ্ধৃতি বা পোস্ট সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার প্রেক্ষাপট জানা ও পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করা জরুরি। কনটেক্সট ছাড়া কোনো উক্তি বা খণ্ডিত সত্য যে কোনো ব্যক্তিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে এবং সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। তাই কোনো কিছু শেয়ার করার আগে বা প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে পুরো বিষয়টি যাচাই করা এখন সময়ের দাবি। কারণ, অর্ধেক সত্য অনেক সময় পুরো মিথ্যার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

সূত্র: দ্যা প্রেস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category