নড়াইল সদর উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বেকারত্ব ও পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাকিব শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত মধ্যরাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রাম এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম চাঁদনী আক্তার খাদিজা (২০)। তিনি খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) সপরিবারে নড়াইলের বাহিরগ্রামে খালাশাশুড়ির বাড়িতে বেড়াতে আসেন সাকিব ও খাদিজা দম্পতি। সাকিব কর্মবিমুখ হওয়ায় এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। এরই জেরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় খাদিজাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সাকিব। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর নিহতের পরিবার দাবি করে—অসাবধানতাবশত বঁটির ওপর পড়ে গিয়ে খাদিজা মারাত্মক আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত পর্যবেক্ষণ করে এবং সাকিবের কথাবার্তায় ব্যাপক অসংলগ্নতা দেখতে পায়। এতে সন্দেহ হলে সাকিবকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।