পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার বা জুমাতুল বিদা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতে আজ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জুমার নামাজের সময় রাজধানীতে বৃষ্টি নামলেও ইবাদতকারীদের আধ্যাত্মিক একাগ্রতায় তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সিয়াম সাধনার পবিত্র মাসকে বিদায় জানানোর এই বিশেষ ক্ষণে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মহান রবের সান্নিধ্য ও ক্ষমা লাভের ব্যাকুলতায় দলে দলে মসজিদে ছুটে গেছেন হাজারো মানুষ।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমেও আজ এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১২টা বাজতে না বাজতেই দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ এখানে সমবেত হতে শুরু করেন। মুসল্লিদের আগমনে দুপুর ১টার আগেই মসজিদের মূল অংশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং আজানের পর নিচতলাতেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। যদিও বাধ সাধা বৃষ্টির কারণে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সামগ্রিক উপস্থিতিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে বলে মনে হয়েছে, তবুও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মাঝেও মুসল্লিদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতো।
সাপ্তাহিক ইবাদতের সেরা দিন এবং রমজানের শেষ দশকের এই বিশেষ শুক্রবারটি প্রতিটি রোজাদারের কাছেই অত্যন্ত আবেগ ও মর্যাদার। বায়তুল মোকাররমে খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। নামাজ শেষে নিজেদের পাপমোচন ও রহমত কামনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে ইবাদতে মশগুল ছিলেন অনেকে। এ সময় মহান আল্লাহর দরবারে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল ফিতর যেন সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ ও সুখ বয়ে আনে, সেই দোয়াও করা হয়। ইবাদতের এই পবিত্র আবহে অনেককেই তাদের প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সামর্থ্য অনুযায়ী দান-খয়রাত করতে দেখা যায়।