দেশে বর্তমানে কোনো লোডশেডিং নেই বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা জানান। সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, “দেশের কোথাও লোডশেডিং নেই। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়ত কোথাও কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি অতীতের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি করা হয়েছিল। যারা ডিজেল চুরি এবং এই কৃত্রিম সংকটের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। সংস্থাটির সূত্র জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ দেশে চাহিদার সম্পূর্ণটুকু উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে কোথাও কোনো লোডশেডিং হয়নি। পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, আগের তুলনায় এখন চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আগে ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে উৎপাদনে ঘাটতি থাকলেও, বর্তমানে সেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতেও এই শূন্য লোডশেডিং ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বর্তমানে কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরই প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পিডিবি। সংস্থাটি জানায়, তেল ও গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কারণে সেগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে পর্যাপ্ত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে এবং খুব শিগগিরই আরেকটি ইউনিট এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) চাহিদা ও উৎপাদনের তথ্য বিশ্লেষণেও এই ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সমপরিমাণ বিদ্যুৎই সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল বিদ্যুতের চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৫, ১১ হাজার ৩৬ এবং ১২ হাজার ৬১৪ মেগাওয়াট। এসব দিনেও চাহিদা অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় লোডশেডিং হয়নি। মে মাসের শুরুতেও এই নিরবচ্ছিন্ন ধারা অব্যাহত ছিল। ১, ২ ও ৩ মে যথাক্রমে ১০ হাজার ৪৬২, ১১ হাজার ৯২ এবং ১২ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সরকারের পরিকল্পনা হলো, সামনের দিনগুলোতেও দেশে এই ‘শূন্য লোডশেডিং’ পরিস্থিতি ধরে রাখা।