• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
Headline
মহাতারকার অফ-ফর্ম ও দীর্ঘ খরা: কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের পয়েন্ট হারানোর নেপথ্যে রোনালদো জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ হ্রাস: হুমকিতে পরিবার পরিকল্পনা ১০ বছর পর রিজার্ভ চুরির খসড়া চার্জশিট: ড. আতিউরসহ অভিযুক্ত ৬৪ পাচারের আট লাখ কোটি টাকা ফেরানোর জটিল সমীকরণ চীনে ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল, অগ্রাধিকার পাচ্ছে এআই শিক্ষা বার্ধক্য বুড়ো বয়সে নয়- শুরু হয় আজ: সাতটি সতর্কবার্তা রেলযাত্রায় আসছে বৈদ্যুতিক ট্রেন, মেগা সেতুসহ মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিডের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর শুভেন্দুর ‘ডিপোর্ট’ নীতি মানবাধিকারের লঙ্ঘন: এইচআরডব্লিউ চালের বাজারে কোনো ঊর্ধ্বগতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারের নজর রুশ তেলের দিকে 

Reporter Name / ৭৩ Time View
Update : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অস্থিরতার সবচেয়ে বড় প্রভাবটি গিয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারের ওপর। কোনোভাবেই যেন তেলের বাজারের এই লাগামহীন উত্তাপ কমানো যাচ্ছে না। একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিঘ্ন। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনে এক স্থবিরতা নেমে এসেছে। একসময় যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করত, তা এখন ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। মাঝে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ থামানোর একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, মঙ্গলবারই তা পুনরায় ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়ে বাজারকে আবারও অস্থির করে তোলে। এই বৈশ্বিক সংকটের কারণে বিশ্বের অন্যান্য আমদানিনির্ভর দেশের মতো বাংলাদেশও এক গভীর বিপাকে পড়েছে। তবে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবার বেশ কিছু যুগান্তকারী এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।

এই চরম সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হলো দেশের জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা। বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৩৫ থেকে ৩৮ দিনের। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই মজুত দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা কোনোভাবেই নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই মজুত সক্ষমতা ৩৮ দিন থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬০ দিনে উন্নীত করার। জ্বালানি বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম এই উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আগামী এপ্রিল ও মে মাসের মধ্যেই দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ৫০ থেকে ৬০ দিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরকদমে কাজ চলছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই সরকার এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে তেল কেনার নানা উপায় খুঁজছে। কৌশলগত কারণেই তিনি এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, তবে সময়মতো দেশবাসী পুরো বিষয়টি জানতে পারবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

সরকারের এই জ্বালানি মজুত বাড়ানোর মহাপরিকল্পনার একটি অন্যতম প্রধান অংশ হলো রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল আমদানি করা। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অগ্নিমূল্যের যুগে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে পারলে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং আগামী বেশ কিছুদিন তেল নিয়ে সরকারকে আর বড় ধরনের কোনো দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার রাশিয়া থেকে অন্তত ৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিন্তু এই তেল আমদানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ চাইলেই সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারে না। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি বিভাগের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশনাটি কেবল রাশিয়ার তেল বোঝাই করে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা জাহাজগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত নয়।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার চাইছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো যুক্তরাষ্ট্র যেন বাংলাদেশের জন্যও রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে অন্তত দুই মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এই কূটনৈতিক ছাড় আদায়ের জন্য বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি বিভাগ ইতিমধ্যেই জোর তৎপরতা শুরু করেছে। গত সোমবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জুম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুনির হোসেন চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং রাশিয়ার তেলের অপরিহার্যতার বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। পরবর্তীতে এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মার্কিন সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে।

কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মজুত দ্রুত বাড়ানোর জন্য সরকার প্রচলিত টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) আশ্রয় নিতে যাচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সময় বাঁচানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় সরকার কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি দরপত্র আহ্বান ছাড়াই চারটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই কোম্পানিগুলো হলো বেরিনজিয়া, ম্যাক্সঅয়েল, সুপারস্টার এবং বিএসপি। ইতিমধ্যেই এই কোম্পানিগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এই জরুরি ক্রয়ের প্রস্তাবগুলো আজ-কালের মধ্যেই সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্পট প্রাইস বা তেল খালাসের দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের যে দাম থাকবে, তার সঙ্গে প্রতি ব্যারেলে ফ্রেইট চার্জ বা জাহাজ ভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় হিসেবে সাড়ে চার ডলারের প্রস্তাবটি সরকার গভীরভাবে বিবেচনা করছে।

এর আগে গত ১২ মার্চ ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ অ্যান্ড এ এনার্জি নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন অকটেন আনার একটি প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়। একই সভায় পেট্রোগ্যাস নামের আরেকটি কোম্পানির কাছ থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আনার প্রস্তাবও সবুজ সংকেত পায়। শর্ত অনুযায়ী, পেট্রোগ্যাস কোম্পানিকে মঙ্গলবারের মধ্যে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি বা জামানত হিসেবে ১০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া সদ্য সমাপ্ত ঈদের ছুটির মধ্যেও জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিসি বসে থাকেনি। এই ছুটির সময়েই তারা বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া ১০ থেকে ১৫টি তেল বিক্রির প্রস্তাব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করেছে। এর মধ্য থেকে সবচেয়ে লাভজনক এবং বাস্তবসম্মত ৩-৪টি প্রস্তাব খুব শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৬৬ লাখ টনেরও বেশি জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে কেবল ডিজেলের চাহিদাই ৪০ লাখ টনের ওপরে। প্রতি মাসে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গড়ে সাড়ে ৫ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, মার্চ মাসে দেশে মোট ১৭টি পার্সেল বা তেলের জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে ১০টি পার্সেল ইতিমধ্যেই হাতে পাওয়া গেছে এবং বাকিগুলো আনার বিষয়ে বিপিসি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, এপ্রিল মাসের চাহিদা মেটাতে ১৫টি এলসি বা ঋণপত্র খোলা হয়েছে। সরবরাহকারীরা এর মধ্যে ১৩টি পার্সেল দিতে সম্মত হলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি পার্সেলের বিষয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এই অনিশ্চিত প্রেক্ষাপটেই সরকার রাশিয়া, সৌদি আরবসহ বিশ্বের সম্ভাব্য সব উৎস থেকে তেল কেনার জন্য জোর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে আশার কথা হলো, সরকারের নানামুখী তৎপরতার কারণে সম্প্রতি ডিজেলের মজুত কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের বন্ধের সময়ে ৪ থেকে ৫টি তেলের জাহাজ দেশের বন্দরে এসে পৌঁছানোর কারণে ডিজেলের মজুত আগের ১ লাখ ৩০ হাজার টন থেকে বেড়ে বর্তমানে ১ লাখ ৭০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তা যথেষ্ট নয়।

জ্বালানি মজুত বাড়ানোর এই সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দক্ষতা এবং ব্যবসায়িক মানসিকতা নিয়ে বেশ গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। দেশে জ্বালানি তেল মজুত ও বিতরণের মূল দায়িত্বে রয়েছে বিপিসির অধীনস্থ তিন প্রধান কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনা অয়েল। বিপিসি এবং জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই কোম্পানিগুলোর অদক্ষতা এবং গাফিলতির কারণেই দেশে তেলের মজুত আশানুরূপ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য হলো, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যখন হুমকির মুখে, তখন এই তিনটি বিতরণ কোম্পানির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের অলস অর্থ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে পড়ে আছে। গত প্রায় এক দশক ধরে এই কোম্পানিগুলোর মূল মনোযোগ তেল মজুত বা বাজারজাতকরণের অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে না থেকে, ব্যাংকে টাকা খাটিয়ে সুদ থেকে লভ্যাংশ আয়ের দিকেই বেশি নিবদ্ধ হয়ে গেছে।

এই হাজার হাজার কোটি টাকার অলস অর্থের বিপরীতে প্রাপ্ত বিশাল অঙ্কের সুদ থেকে প্রতি বছর এই কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত মোটা অঙ্কের বোনাস পকেটে ভরছেন। অথচ তাদের যে আসল কাজ—অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন নতুন ডিপো নির্মাণ করা এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তেল বাজারজাত করা—সেদিকে তাদের আগ্রহ একেবারেই তলানিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন যে, তেল বিতরণ কোম্পানিগুলোর আসল ব্যবসা হওয়া উচিত তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ব্যাংকে টাকা ফেলে রেখে সুদের ব্যবসা করা নয়। এটি কোনোভাবেই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নীতি হতে পারে না। তবে এই সমালোচনার মুখে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পদ্মা অয়েল তেলের মজুত বাড়াতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়। তবে এ বিষয়ে তারা এখন পর্যন্ত বিপিসি বা জ্বালানি বিভাগের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা বা নির্দেশনা পাননি, যা পেলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছেন।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এক ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দাম ও সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতো ভূরাজনৈতিক কূটনৈতিক বাধা, এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম অদক্ষতা ও পেশাদারিত্বের অভাব। এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত তেল আমদানি এবং রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো কূটনৈতিক উভয় পথেই জোরেশোরে হাঁটছে। ৬০ দিনের মজুত সক্ষমতা অর্জনের এই লক্ষ্য যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিকে বিশ্ববাজারের আকস্মিক ধাক্কা থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়, অভ্যন্তরীণ বাধা এবং বৈশ্বিক কূটনীতির এই জটিল সমীকরণ মিলিয়ে বাংলাদেশ তার জ্বালানি নিরাপত্তাকে কতটা সুসংহত করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category