আরব সাগরে পানামার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি গোল্ড অটাম’-এ ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানের সোহার বন্দরে যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার দুপুরে এ হামলার শিকার হয় জাহাজটি। এতে থাকা ১৮ জন নাবিকের মধ্যে ৬ জনই বাংলাদেশি। অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এই নাবিকদের পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার করেছে। বর্তমানে তারা করাচি বন্দরে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বাংলাদেশি নাবিক এহসান সাবরি রিহাদ জানান, মঙ্গলবার দুপুরে খাওয়ার পর বিশ্রামের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে জাহাজটি কেঁপে ওঠে। দ্রুত লাইফ জ্যাকেট পরে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইঞ্জিনকক্ষে ছুটে যান। প্রথম মিসাইলটি জাহাজের ক্রেনের নিচে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা জাহাজের অ্যাকোমডেশন কক্ষে ঢুকে পড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঠিক পেছনে দ্বিতীয় মিসাইলটি আঘাত হানে। রিহাদ বলেন, “কয়েক সেকেন্ডের এদিক-সেদিক হলে আমরা সবাই সেদিনই লাশ হয়ে যেতাম।”
জাহাজটিতে থাকা ১৮ জন নাবিকের মধ্যে ১১ জন চীনের এবং বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক ছিলেন। হামলার পর বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে ৫ বাংলাদেশি নাবিক লাইফবোটে করে উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকেন। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিত্যক্ত জাহাজটিতে ক্যাপ্টেনসহ আরও ৪ জন আটকে পড়েন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাবিক মাজহারুল আবেদীন শাওনও ছিলেন।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে জানা গেছে, আক্রান্ত জাহাজ থেকে ফ্লেয়ার ছুড়ে সাহায্য চাওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর ‘এমভি ইউনাইচ’ নামের একটি জাহাজ তাদের প্রাথমিক উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির নৌবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়। বুধবার সকালে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ ‘পিএনএস হুনাইন’ পরিত্যক্ত জাহাজ ও অন্য উদ্ধারকারী জাহাজ থেকে ১৮ জন নাবিকের সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের করাচি বন্দরে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশি ৫ জন নাবিক করাচির একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের পাসপোর্ট, সিডিসিসহ সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় তারা এখন দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নাবিকদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সব ধরণের কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।