• শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
Headline
শিক্ষার আড়ালে রমরমা বাণিজ্য: মেডিকেলে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে বেপরোয়া আন্তর্জাতিক চক্র হাইপারভিজিল্যান্স: আপনার কি এরকম কখনো হয়েছে? তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয় সংসদে ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা আকস্মিক বন্যায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আশুগঞ্জে শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সেই গাড়িটি এখনো সচল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে ২৫ সদস্যের এনসিসিএফ গঠন ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি : আইরিন খান যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত ১৮ ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের

দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ: মাধ্যমিক স্তরে দক্ষ শিক্ষকের হার মাত্র ৫৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা / ১১৪ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে সবার নিচে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ইউনেস্কো প্রকাশিত ‘বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যান’ অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক স্তরের মাত্র ৫৫ শতাংশ শিক্ষকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা রয়েছে। এই সূচকে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান কেবল হতাশাজনকই নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে।

পরিসংখ্যানের চিত্র: তলানিতে বাংলাদেশ

ইউনেস্কোর মানদণ্ড অনুযায়ী, শিক্ষকের দক্ষতা নির্ধারণ করা হয়েছে দুটি বিষয়কে ভিত্তি করে—সংশ্লিষ্ট স্তরে পাঠদানের প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ (৯৮.৫%)। এর পরেই রয়েছে ভুটান (৯৭.৯%), নেপাল (৯৭.৪%), ভারত (৯২.৩%) এবং শ্রীলঙ্কা (৮০.৪%)। এমনকি অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পাকিস্তানেও এই হার ৬৮.৯ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশে গড় হার মাত্র ৫৫ শতাংশ।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ভয়াবহ সংকট

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণীকক্ষে পাঠদানকারী শিক্ষকদের বড় একটি অংশের ওই বিষয়ে উচ্চতর কোনো ডিগ্রি নেই।

  • গণিত: মাধ্যমিক স্তরে গণিত পড়ান এমন শিক্ষকদের ৫৬ শতাংশই উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর গণিত পড়েননি। গণিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি আছে মাত্র ১৪.৬৬ শতাংশ শিক্ষকের।

  • ইংরেজি: ইংরেজি পড়ানো শিক্ষকদের প্রায় ২৪ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর ইংরেজি পড়েননি। এই বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষকের হার মাত্র ১৬.৯৯ শতাংশ।

সংকটের মূলে অনিয়ম ও অকার্যকর প্রশিক্ষণ

শিক্ষাবিদদের মতে, এই সংকটের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • স্বচ্ছ নিয়োগের অভাব: দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি এবং স্কুল ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে অযোগ্য ও ভুয়া সনদধারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • অকার্যকর প্রশিক্ষণ: অনেক ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষককে প্রশিক্ষণে না পাঠিয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষককে পাঠানো হয়। ফলে প্রশিক্ষণের বাস্তব প্রয়োগ শ্রেণীকক্ষে দেখা যায় না।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও সুপারিশ

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “শিক্ষকদের প্রাতিষ্ঠানিক সনদ থাকলেও আধুনিক ‘শিখন-শিক্ষণ’ পদ্ধতিতে তাদের বড় অংশেরই দক্ষতার ঘাটতি আছে। বাংলার শিক্ষক যদি বিজ্ঞান পড়ান, তবে শিক্ষার মানোন্নয়ন অসম্ভব।”

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ মনে করেন, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, “বহু শিক্ষকের সার্টিফিকেট থাকলেও সেই অনুযায়ী দক্ষতা নেই। বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত বিএড ডিগ্রির মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম শিক্ষার মান ফেরাতে শিক্ষক নিয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং মেধাবীদের এই পেশায় আকৃষ্ট করতে সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

উত্তরণের পথ

প্রতিবেদনে শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। দায়সারা প্রশিক্ষণের পরিবর্তে বিষয়ভিত্তিক কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত (বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ৬০-৭০ জন) কমিয়ে আনাকে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category