• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

নামেই যুদ্ধবিরতি: একদিকে সমঝোতা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রকেট ও ড্রোন হামলা

Reporter Name / ৬৭ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দিলেও বুধবার সকালেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গর্জনে কেঁপে উঠেছে। হোয়াইট হাউস থেকে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ইসরায়েলের ‘অতর্কিত’ হামলা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে পাল্টা আক্রমণ এই শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

জেরুজালেমে বিস্ফোরণ ও ইসরায়েলি হামলা

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার সকালে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, খোদ জেরুজালেমে আজ একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক

যুদ্ধবিরতির আবহের মধ্যেই বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে:

  • বাহরাইন: দেশটিতে হামলার সাইরেন বাজার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

  • কাতার: কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সফলভাবে প্রতিপ্রতিহত করেছে।

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমিরাত দাবি করেছে, ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে।

  • সৌদি আরব: সৌদি কর্মকর্তারাও তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্পের শর্ত ও শাহবাজ শরীফের মধ্যস্থতা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের দীর্ঘ মধ্যস্থতায় এই দুই সপ্তাহের বিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শর্ত দিয়েছিলেন যে, ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে। শাহবাজ শরীফ জানিয়েছিলেন, ইরান এই শর্তে রাজি হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বিশ্লেষণ: কেন এই বিশৃঙ্খলা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে ইসরায়েলের অবস্থান। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে ইসরায়েল রাজি হয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় বারবার বলছে যে—লেবানন এই চুক্তির বাইরে এবং ইরান যদি হরমুজ প্রণালি না খোলে তবে তারা হামলা থামাবে না। এর ফলে একদিকে যেমন ‘টেবিলে’ শান্তি আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ‘মাঠে’ যুদ্ধ আগের চেয়েও জোরালো রূপ নিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category