• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

নেইমার থাকলেও এবার হট ফেভারিট নয় ব্রাজিল

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ মিশন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা বরাবরের মতোই তুঙ্গে। তবে আগামী ১৪ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বৈশ্বিক ফুটবল যজ্ঞে এবার একদম ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি সেলেসাওরা। দলে মহাতারকা নেইমার থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্স ও সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এবারের আসরে হট ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না সাম্বার দেশকে। ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড কিংবা স্পেনের মতো দলগুলোর তুলনায় এবার রেটিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে থেকেই মাঠে নামবে কার্লো আনচেলোত্তির শিষ্যরা। তবে ফেভারিটের তকমা না থাকাকে দলের জন্য একদিক থেকে সুবিধাজনক বলেই মনে করছেন ফুটবলাররা।

নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। এই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো হাইতি ও স্কটল্যান্ড। প্রথম ম্যাচ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নানা সমীকরণ কাজ করলেও রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত হাঙর ‘রিতিনিয়া’ কিন্তু ব্রাজিলের পক্ষেই রায় দিয়েছে। এই জলজ প্রাণীর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, উত্তর আফ্রিকার দল মরক্কোকে হারিয়েই শুভ সূচনা করবে সেলেসাওরা। অবশ্য এই বিশ্বাসের বড় রসদ জোগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানে ওঠার ঠিক আগে পানামার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের ৬-২ গোলের বড় জয়। মারাকানা স্টেডিয়ামে সেই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াটার স্যালুট’ অভ্যর্থনা নিয়ে নিউজার্সির নিওয়ার্ক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে দল। বর্তমানে তারা নিউজার্সির ‘দ্য রিজ’ হোটেলে অবস্থান করছে এবং মরিসটাউনের কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং সেন্টারে জোর কদমে অনুশীলন সারছে।

ব্রাজিল শিবিরের অন্যতম প্রধান চিন্তার কারণ তাদের পোস্টার বয় নেইমার। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা এই অভিজ্ঞ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দলে থাকলেও চোটের কারণে তিনি নিজের শতভাগ উজাড় করে দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে। তাছাড়া আগের মতো দল এখন আর এককভাবে তার চোট কিংবা ফর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, ইগর থিয়াগো, দানিলো, লুকাস পাকেতা ও গোলরক্ষক আলিসন বেকারদের নিয়ে গড়া তরুণ ও অভিজ্ঞদের এই স্কোয়াড বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। দলের ৩৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “হয়তো আমরা এবার ফেভারিটের দৌড়ে এক ধাপ পিছিয়ে আছি, তবে আমরা পুরোপুরি সতর্ক ও প্রস্তুত। সবচেয়ে বড় ফেভারিট না হওয়াটা অনেক সময় দলের ওপর থেকে বাড়তি মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।”

ইতিহাস অবশ্য উত্তর আমেরিকার মাটিকে ব্রাজিলের জন্য পয়মন্ত বলেই সাক্ষ্য দেয়। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো এবং ১৯৯৪ সালে এই যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল তারা। তবে ২০০২ সালের পর গত ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের ফাইনালেই পা রাখতে পারেনি সফলতম এই দলটি। ফুটবল সম্রাট পেলের মৃত্যুর পর এই দীর্ঘ খরা ঘোচাতে মরিয়া ভিনিসিয়ুস-পাকেতারা। বিশ্বকাপের সবকটি আসরে খেলা একমাত্র দল হিসেবে ১১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৭৬টি জয় এবং ২৩৭টি গোল করার অনন্য কীর্তি রয়েছে ব্রাজিলের ঝুলিতে। এবার সব অতীত পরিসংখ্যান ও ফেভারিটের চাপ একপাশে সরিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নতুন করে ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় কার্লো আনচেলোত্তির দল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category