• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

বিয়ের পর প্রথম কয়েক মাস: ৮টি পরামর্শ

বাদল সৈয়দ / ২ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

কিছুদিন আগে বত্রিশতম বিয়ে বার্ষিকী গেলো।
দেখতে দেখতে ৩২ বছর…!
পরদিন সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠানে পরিচিত এক তরুণ দম্পতির সাথে দেখা। মাত্র কয়েক মাস হলো ওরা বিয়ে করেছে। তাদের আমি খুব স্নেহ করি-ওরাও আমাকে পছন্দ করে। মামা ডাকে।
আমাকে দেখে দুজনে একসাথে হেসে বলল- ‘মামা, কাল আপনার ম্যারেজ অ্যানিভারসারি ছিল, তাই না?’
আমি হেসে বললাম- ‘ইয়েস, উই আর গেটিং ওল্ড টুগেদার। হাহাহা।‘
‘কনগ্রাচুলেশনস, মামা।’
আমি মৃদু হেসে তাদের ধন্যবাদ দিলাম।
সামনে টেবিলে বিভিন্ন খাবার। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নিচ্ছে।
আমরা ভিড় কমার জন্য অপেক্ষা করছি। এমন সময় মেয়েটি জিজ্ঞেস করল- ‘মামা, অনেক লম্বা সংসার জীবন পার করলেন। সময়টা কেমন কেটেছে?’
আমি হাসতে হাসতে বললাম-
‘মা, সংসার হচ্ছে আঙুরফল ভর্তি বাটি। টক-মিষ্টি মেশানো।’
তারা পরস্পরের দিকে তাকালো- দুজনের চোখে নতুন বিয়ের ঘোর।
ছেলেটিকে মনে হলো বেশ সিরিয়াস। সে বলল- ‘ টক ভাব কীভাবে কাটানো যায়, মামা?’
আমি উত্তর দিলাম- ‘সবচেয়ে মিষ্টি আঙুরেও হালকা টক ভাব থাকে। ঠিক তেমনি সবচেয়ে সুখী সংসারেও কিছু ঝামেলা থাকে। তবে চেষ্টা করলে পুরোপুরি না হলেও এটি অনেকটাই কাটানো যায়।’
‘কীভাবে কাটানো যায়?’
‘আমার একজন বড়ভাই আছেন। একই কলোনিতে থাকতাম। তার নাম হারুনুর রশিদ পিন্টু। আমি তাকে আপন বড়ভাইয়ের মতোই জানি। বিয়ের আগে তিনি আমাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। বেশ কাজের উপদেশ- যদিও আমি সবগুলো উপদেশ শতভাগ মানতে পেরেছি তা নয়। তবে পারলে ভালো হতো। তোমরা চাইলে ওনার উপদেশগুলো বলতে পারি।‘
‘বলুন’- দুজনের কণ্ঠে আগ্রহ।
তিনি বলেছিলেন, বিয়ের প্রথম কয়েক মাসেই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেমন-
১) পরস্পরের মা- বাবা, ভাইবোনের প্রতি দুজনে কী ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করে। এটি প্রতিটি সংসারে ঝামেলার কারণ হয়।
২ ) বিয়ে মানে দুজনের কারো প্রাইভেট স্পেস থাকবে না তা নয়। ছেলেটি তার পুরোনো বন্ধুবান্ধব ছেড়ে দেবে- মেয়েটি সারাক্ষণ ঘরে থাকবে তা সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে তারা কীভাবে যার যার মতো সময় কাটাবে সেটা ঠিক করা উচিত। শালীন স্বাধীনতা দুজনেরই অধিকার। তাতে বাধা দিলে সংসার শান্তির হয় না।
৩ ) সংসারে কে কী কাজ করবে তা ঠিক করা উচিত। এতে একজনের উপর চাপ কমবে শুধু তা নয়- দুজনে শুধু বিছানা গোছানো ও মশারি টাঙানোর দায়িত্ব ভাগ করে নিলেও যে বোঝাপড়া হয়- হাজারবার বলে -কয়েও তা হয় না। বিশেষ করে চাকরিজীবী দম্পতির জন্য এ বোঝাপড়া জরুরি।
৪) দুজনের পছন্দ-অপছন্দ জেনে নেওয়া উচিত। সংসার টিকে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উপর। একে অপরের অপছন্দের কাজ না করা এ শ্রদ্ধাবোধের অংশ। তবে অপছন্দের ব্যাপারটি যৌক্তিক হওয়া উচিত।
৫) স্ত্রী যদি ছাত্রী হয় তবে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা আগেই ক্লিয়ার করা উচিত।
৬ ) সন্তান কখন নেবে তার সম্ভাব্য সময় ঠিক করে ফেলা উচিত। তাৎক্ষণিকভাবে সন্তান নিতে হবে তা নয়- তবে সবদিক বিবেচনা করে পরিকল্পনা করে ফেলা ভালো। এক্ষেত্রে পিন্টু ভাইয়ের একটি পরামর্শ অদ্ভুত হলেও খুব পছন্দ হয়েছিল। তা হচ্ছে, দুজনে মিলে অনাগত সন্তানের নাম ঠিক করে ফেলা। একটি ছেলের নাম, আরেকটি মেয়ের। এটা ভালোবাসার অন্যরকম রসায়ন তৈরি করে। কল্পিত একটি সন্তান – তাকে ঘিরে দুজনের স্বপ্ন! কী অসাধারণ ব্যাপার তাই না?
৭ ) কখনো শুধু স্বামী কর্মজীবী হন। কখনো স্বামী-স্ত্রী দুজনেই। দুটো ক্ষেত্রেই কাজ ও পরিবারের মধ্যে কীভাবে ব্যালান্স করা হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করা উচিত।
৮) প্রথম কয়েক মাসেই স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব শুরু হয় সময় দেওয়া নিয়ে। তাই এসময় যদ্দুর সম্ভব দুজনে দুজনার হয়ে থাকা উচিত। তাতে অনেক বেশি বোঝাপড়া গড়ে ওঠে। বাকি জীবনেও এই ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এবার মেয়েটি আগ্রহ নিয়ে হাত নেড়ে নেড়ে বলল-‘ সিদ্ধান্তগুলো তো পাল্টেও যেতে পারে।’
আমি হেসে বললাম- মা, একটা কথা আছে, তাহলো- মানুষ ঘনঘন বদলায়। দিনে বদলায়, রাতে বদলায়। তারপরও আমাদের চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টায় মরুভূমিতে ফুল ফোটে সংসারে ফুটবে না কেন?’
মেয়েটি ছেলেটির হাত চেপে ধরে তার দিকে তাকালো। সে দৃষ্টিতে গাঢ় প্রেম। তার আঙুলে বিয়ের আঙটি।
সে আঙটিতে ছোট্ট একটি সোনার গোলাপ ফুল!
-আসুন মায়া ছড়াই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category